রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে স্কুল ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় রুমান মোল্যা (২০) নামে এক তরুণকে পিটিয়ে হত্যা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি গোয়ালন্দ উপজেলার ছোটভাকলা ইউনিয়নের চর আন্ধার মানিক গ্রামের আবুল কালাম মহুরীর ছেলে ও ফরিদপুর বেসরকারি পলিটেকনিক্যাল কলেজের ছাত্র। শনিবার বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার ছোটভাকলা ইউনিয়নের কাটাখালী বাজারে ঘটনাটি ঘটে।
এ ঘটনায় রুমনের বন্ধু সুমন বেপারী (২০), ইমন গাজী (২০) ও আকাশ খান (১৯) নামে তিন তরুণও আহত হয়। এরমধ্যে গুরুতর আহত সুমন ও ইমনকে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। সংবাদ পেয়ে থানা পুলিশ স্থানীয় বাজারের দুই দোকানীকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেয়।
আহত সুমন বেপারী জানান, বরাট ভাকলা স্কুল এন্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া রজনী আক্তারকে (১৪) কাটাখালী এলাকার রাসেল নামের এক তরুণ প্রায় উত্ত্যক্ত করতো। সম্প্রতি রাসেল ওই স্কুল ছাত্রীকে অপহরণের হুমকি দেয়। এ বিষয়ে সুমন শনিবার দুপুরের দিকে ওই স্কুল ছাত্রী তার ভাগনি হয় বলে রাসেলকে মোবাইলে উত্ত্যক্ত করতে নিষেধ করে। এতে রাসেল ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে (সুমন) স্থানীয় কাটাখালী বাজারে এসে সাক্ষাতে কথা বলতে বলে। পরে সুমন বন্ধু আকাশ খান ও ইমন গাজীকে সাথে করে বেলা সাড়ে তিনটার দিকে কাটাখালী বাজারে আসে। সেখানে রাসেলের নেতৃত্বে স্থানীয় বখাটে হিসেবে পরিচিত টিপুসহ ৫/৬ জন তাদের এলোপাথারী কিল-ঘুষি মারপিট করে আহত করে। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়। এ সময় সুমন ফোনে রুমানকে ঘটনাটি জানায়। রুমান দ্রুত মোটরসাইকেলে কাটাখালী বাজারে আসলে রাসেল ও টিপুসহ সহযোগীরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে রুমানের ওপর হামলা চালায়। টিপু কাঠের চলা দিয়ে পিছন থেকে রুমানের মাথায় আঘাত করলে সে মোটরসাইকেল থেকে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে এলোপাথারী পেটাতে থাকে। স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রুমানকে মৃত ঘোষণা করে।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মির্জা আবুল কালাম আজাদ জানান, রাতেই লাশের সুরতহাল শেষে রবিবার সকালে ময়না তদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের জন্য ইতিমধ্যে পুলিশ মাঠে কাজ করেছে।
ইত্তেফাক/এমআই