সিদ্ধিরগঞ্জে উদ্ধার হওয়া তিনটি লাশ অর্থাৎ ট্রিপল মার্ডারের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া লাশের মধ্যে ছিল মা আঞ্জুবী আক্তার (২৮) ও তার দুই মেয়ে মাহিদা (৭) ও ১৫ মাস বয়সী মেয়ে মাহি। তাদেরকে হত্যার পরিকল্পনা করে নিহত আঞ্জুবী আক্তাররের স্বামী মাসুদ। হত্যাকাণ্ড ঘটায় দ্বিতীয় স্ত্রী শোভা আক্তার ও তার চাচাতো ভাই সবুজ ওরফে সোহেল। মূলত স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ের বিরোধের জের ধরেই তাদেরকে শ্বাসরোধে হত্যার পর তাদের লাশ ব্যাগে করে পুকুরে ফেলা হয়েছিল।
রবিবার বিকালে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আশেক ইমামের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে গ্রেপ্তারকৃত সবুজ ওরফে সোহেল। গ্রেফতারকৃত অপর আসামি স্বামী মাসুদ দেওয়ানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হলে আদালত শুনানির জন্য সোমবার ধার্য করেছেন।
হত্যার রহস্য উদঘাটনের বিষয়ে রবিবার বিকাল সাড়ে ৫টায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানা কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে হত্যাকাণ্ডের রোমহর্ষক বিবরণ জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শরফুদ্দিন, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুস সাত্তার, পরিদর্শক (তদন্ত) নজরুল ইসলাম, পরিদর্শক (অপরারেশন) আজিজুল হক প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানায়, সিদ্ধিরগঞ্জের আটি হাউজিং মসজিদ গলির কবির মিয়ার বাড়ির ৬ তলার পশ্চিম দক্ষিণ ফ্ল্যাটটি ভাড়া নেয় মাসুদ দেওয়ান। তিনি তার প্রথম স্ত্রী আঞ্জুবী আক্তারের দ্বিমতে তারই বান্ধবী শোভা আক্তারকে বিয়ে করেন। এই বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া লেগেই থাকত। ওই ঝগড়ার জের ধরে মাসুদ তার দ্বিতীয় স্ত্রী শোভা আক্তার ও চাচাতো শ্যালক সবুজ ওরফে সোহেলকে সঙ্গে নিয়ে প্রথম স্ত্রী আঞ্জুবী আক্তারকে হত্যার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা মোতাবেক গত ৯ জুন তার দ্বিতীয় স্ত্রী শোভা ও চাচাতো শ্যালক সোহেল প্রথমে আঞ্জুবী আক্তারকে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে বড় মেয়ে মাহিদা ও ছোট মেয়ে মাহিকেও শ্বাসরোধে হত্যা করে। আঞ্জুবীর লাশ ড্রামে ভরে গোদনাইল নয়াপাড়া এলাকার ডিএনডি ক্যানেলে ফেলে দেয়। আর মেয়ে দুটির লাশ বস্তায় ভরে সিদ্ধিরগঞ্জের একটি পুকুরে ফেলে দেয়া হয়। গত ১১ই জুন আঞ্জুবীর লাশ , ঈদের দিন ছোট মেয়ে ও পরের দিন বড় মেয়ের লাশ উদ্ধার করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ।
এর আগে পুলিশ চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ থানার দক্ষিণ শাশাআলী এলাকার খলিলুর রহমানের ছেলে মাসুদ দেওয়ান ও চাচাতো শ্যালক নেত্রকোনার খালিয়াজুরী থানার ফতুয়া এলাকার স্বপন মিয়ার ছেলে সবুজ ওরফে সোহেলকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করে।
নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক অঞ্চল) মো. শরফুদ্দিন জানান, ঘাতক সবুজ ওরফে সোহেল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে। স্বামী মাসুদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। অপর ঘাতক দ্বিতীয় স্ত্রী শোভাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
ইত্তেফাক/এমআই