যুবদল নেতার সন্ধান চেয়ে বিএনপি মহাসচিবের বিবৃতি

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে থানা পুলিশ পরিচয়ে উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবাায়ক কামরুজ্জামান সোহাগকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ করেছে তার পরিবার। দুই দিন ধরে তার কোনো খোঁজ মিলছে না। এ নিয়ে পরিবারের সদস্যরা উৎকন্ঠায় রয়েছে। এদিকে পুলিশ সোহাগকে আটকের কথা অস্বীকার করেছে।
 
এ ঘটনায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফকরুল ইসলাম আলমগীর গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে অবিলম্বে সোহাগকে জনসামুখে হাজির করার জন্য দাবি জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুর একটার দিকে গফরগাঁও প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে ওই যুবদল নেতাকে সুস্থ অবস্থায় ফেরত পাওয়ার দাবি জানানো হয়। নিখোঁজ কামরুজ্জামান সোহাগ উপজেলার গফরগাঁও গ্রামের চানু মিয়ার ছেলে এবং উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক।
 
সংবাদ সম্মেলনে কামরুজ্জামান সোহাগের স্ত্রী সানজীদা সুলতানা জানান, গত বুধবার সকাল ১০টার দিকে গফরগাঁও থানার এসআই সাইফুল, এসআই আহসান হাবীব ও একজন কনষ্টেবল গফরগাঁও গ্রামের বসত ঘর থেকে এলাকাবাসীর সামনে সোহাগকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। এ সময় এসআই সাইফুল সোহাগের স্ত্রী সানজিদাকে সোহাগের নামে থাকা মামলার জামিনের কাগজপত্র নিয়ে থানায় যেতে বলে। সোহাগের স্ত্রী সকাল ১১ টায় থানায় উপস্থিত হয়ে রাত দশটা পর্যন্ত সোহাগকে ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য অথবা আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরনের জন্য এসআই সাইফুলের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় থানার কয়েদখানায় থাকা সোহাগের সঙ্গে সোহাগের স্ত্রী বেশ কয়েকবার কথাও বলেন।
 
রাত ১২টার পর থেকে থানা পুলিশ সোহাগকে আটকের কথা অস্বীকার করে। এরপর আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও সোহাগের কোনো সন্ধান পায়নি তারা। তাকে ফিরে পেতে আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাহায্য চাওয়া হয়েছে। 
 
সংবাদ সম্মেলনে সোহাগের স্ত্রী ছাড়াও সোহাগের ৭ বছর বয়সী ছেলে আবীর, ভাই মিম ও শাশুড়ী মনোয়ারা সুলতানা উপস্থিত ছিলেন।
IMG0
এ ব্যাপারে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফকরুল ইসলাম আলমগীর বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলেছেন, অসত্য ও বানোয়াট মামলায় জামিনে থাকা সত্বেও গফরগাঁও উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক কামরুজ্জামান সোহাগকে গ্রেফতার করার পর অস্বীকার করছে আইন-শৃংখলা বাহিনী। এ নিয়ে দল ও সোহাগের ঘনিষ্টজনরা গভীর উদ্বেগ-উৎকন্ঠা ও অশুভ কিছু ঘটার আশংকা করছে। তিনি অবিলম্বে সোহাগকে জনসামুখে হাজির করার দাবি জানান।
 
এ ব্যাপারে গফরগাঁও থানার ওসি আব্দুল আহাদ খান বলেন, আমি ছুটিতে ছিলাম। এ ব্যাপারে আমার কিছুই জানা নেই। মোবাইল বন্ধ থাকায় এসআই সাইফুলের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
 
ইত্তেফাক/নূহু