শিশু নূর হত্যাকারীকে প্রাণদণ্ডের রায়

পাবনার চাটমোহরে চার বছর আগে শিশু আবদুল্লাহ আল নুরকে অপহরণের পর হত্যার দায়ে একজনকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার রাজশাহী দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শিরিন কবিতা আখতার এ রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সোহেল বিশ্বাসের বাড়ি পাবনার চাটমোহর উপজেলায়।
 
একই মামলায় একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তিনজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে। যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত আব্দুস সামাদের বাড়িও চাটমোহর উপজেলায়। খালাসপ্রাপ্তরা হলেন, করিম হোসেন, আপেল আলী ও বকিরুল ইসলাম।
 
রায় ঘোষণার সময় সবাই আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন বলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এন্তাজুল হক বাবু জানান।
 
মামলার বিবরণে বলা হয়,২০১৪ সালের ২৫ জুন দুপুরে চাটমোহর উপজেলার ছোট শালিখা নতুন বাজার হারান মোড় এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে নুরকে অপহরণ করে হত্যার পর লাশ টুকরো করা হয়।
 
এ ঘটনায় আবুল হোসেন পাঁচজনকে আসামি একটি হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ সবার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দিলে এ মামলার বিচারকাজ শুরু করে আদালত। পরে মামলাটি পাবনা আদালত থেকে রাজশাহীর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়।
 
উল্লেখ্য, চাটমোহর পৌরসদরের ছোট শালিখা হারান মোড় এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী মো. আবুল হোসেনের ৪ বছরের শিশু সন্তান আব্দুল্লাহ্ আল নূর (৪) ২০১৪ সালের ২৫ জুন বুধবার সকাল ১১টার দিকে নিখোঁজ হয়। অনেক খুঁজেও নূরের সন্ধান না পেয়ে পরিবারটি পুলিশসহ বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহযোগিতা কামনা করেন। পাশাপাশি শিশুটির সন্ধান চেয়ে মাইকিংও করা হয়।
 
নিখোঁজের দুইদিন পর ২৭ জুন ২০১৪ শুক্রবার বিকেলে স্থানীয় ভাদড়া মাঠের দক্ষিণ পাশের জলমগ্ন আবাদি জমি থেকে মাথা, দুটি হাত, নাড়িভূড়ি বিহীন এবং বিচ্ছিন্ন দুই পাসহ ধারালো অস্ত্রাঘাতে ক্ষত-বিক্ষত পঁচা দূর্গন্ধযুক্ত বিকৃত একটি শিশুর মৃতদেহ পলিথিন ব্যাগে বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার হয়। 
 
শিশুটির পিতা আবুল হোসেন মৃতদেহটি তার সন্তান আব্দুল্লাহ্ আল নূরের মর্মে সনাক্ত করেন। মাঠে উপস্থিত শত শত নারী-পুরুষ নর-পশু জল্লাদরূপী হত্যাকারীর পৈশাচিকতায় স্তব্ধ হয়ে যান। পুলিশ এদিন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আবুল হোসেনের বাড়ির নীচতলার ভাড়াটিয়া যুবদল নেতা সোহেল বিশ্বাসকে (৩৮) আটক করে।
 
এ ঘটনার পরের দিন ২৮ জুন ২০১৪ শনিবার বিকেলে আবুল হোসেনের বাড়ির অদূরে হারান মোড় ব্রিজের পাশ থেকে উদ্ধার হয় শিশুটির বিকৃত মাথা। এদিন পুলিশ কর্মকর্তারা ভাড়াটিয়া সোহেলের ঘর ও ঘরের আশপাশে তল্লাশী চালিয়ে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত বেশকিছু আলামত উদ্ধার করে।
 
হত্যাকাণ্ডের শিকার শিশুটির পিতা আবুল হোসেন বাদী হয়ে ২৭ জুন ২০১৪ ভাড়াটিয়া সোহেল বিশ্বাসকে প্রধান অভিযুক্ত করে সোহেল বিশ্বাসের স্ত্রীসহ অন্তত ৬ জনকে আসামি করে চাটমোহর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এই মামলার অপর আসামিগণ বিভিন্ন সময়ে জামিন লাভ করলেও বিজ্ঞ আদালত প্রধান অভিযুক্ত সোহেল বিশ্বাসকে কারাগারে আবব্ধ রাখেন।
 
মামলাটি পাবনা নারী ও শিশু বিশেষ ট্রাইব্যুনালে বেশকিছু দিন পরিচালনার পর বাদীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রপক্ষ মামলাটি রাজশাহীর দ্রুত বিচার টাইব্যুনালে প্রেরণ করেন। দ্রুত বিচার টাইব্যুনালের বিজ্ঞ বিচারক স্বাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ সাপেক্ষে ঘটনার প্রায় ৪ বছর পর আজ বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণা করেন।
 
রায় ঘোষণার পর সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন নিহত আব্দুল্লাহ আল নুরের পিতা মোঃ আবুল হোসেন ও তার পরিবারের সদস্যরা। তারা দ্রুত রায়ের কার্যকারিতা দেখতে চান।
 
ইত্তেফাক/নূহু