নেদারল্যান্ডের কূটনৈতিক কম্যুনিটির নিকট বাংলাদেশের ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতি তুলে ধরার জন্য উৎসবমুখর এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় নেদারল্যান্ডে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের সরকারী বাসভবন ‘বাংলাদেশ হাউজ’- এ । বাংলাদেশের শাড়ীর নান্দনিক ফ্যাশন শো, গায়ে হলুদ এবং বিয়ের অনুষ্ঠানের প্রতীকী প্রদর্শন, উপজাতিদের ঐতিহ্য এবং বাংলাদেশের নারী ও শিশুদের জীবনযাত্রা তুলে ধরার এ আয়োজনে মুগ্ধ উপস্থিত কূটনৈতিক প্রতিনিধিবৃন্দ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। বাংলাদেশের শাড়ী এবং অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী বস্ত্র পরিধানে এবং গায়ে হলুদ ও বিয়ে অনুষ্ঠানের বর ও কনেকে বরণ সংগীতে তাঁদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ বাংলাদেশ হাউজকে যেন একটি ক্ষুদ্র বাংলাদেশে পরিণত করে তোলে।
নেদারল্যান্ডে কর্মরত রাষ্ট্রদূত মহোদয়দের সহধর্মিণীদের সংগঠন (Ambassadors’ Spouse Association-ASA)‘র নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ হাউজে বুধবার আয়োজিত অনুষ্ঠানে ২০টি দেশের রাষ্ট্রদূতদের সহধর্মিণীরা এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা অংশগ্রহণ করেন। সংগঠনটির একজন সক্রিয় সদস্য হিসেবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মহোদয়ের সহধর্মিণী ও এপিডিমায়োলজিষ্ট ড. দিলরুবা নাসরিন বাৎসরিক এ আয়োজনের ব্যবস্থা করেন। বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংগঠনটির সদস্যদের সামনে তুলে ধরাই ছিল এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। বৃটেন, জর্ডান, স্পেন, ইরান, থাইল্যান্ড, পোল্যান্ড, পেরু, হাঙ্গেরী, মেক্সিকো, দক্ষিণ আফ্রিকা, মালয়েশিয়া, পাকিস্তান, শ্লোভাকিয়া, মরক্কো, বেলারুশ, পানামা, ফিলিপাইন, উরুগুয়ে, এল সালভেদর, রুয়ান্ডার রাষ্ট্রদূতদের সহধর্মিণীরা, ডেপুটি মেয়র দি হেগের সহধর্মিণী, আন্তর্জাতিক উইমেন ক্লাবের প্রাক্তন সভাপতি এবং স্থানীয় বিভিন্ন মিডিয়ার প্রতিনিধিগণ এ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহন করেন।
IMG0
উক্ত অনুষ্ঠানের সুযোগে ড. দিলরুবা নাসরিন চলমান রোহিঙ্গা সমস্যার উপর একটি প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে উপস্থিত কূটনৈতিক কম্যুনিটির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। ঘনবসতিপূর্ণ বাংলাদেশ কিভাবে এক মিলিয়নের অধিক রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়া হচ্ছে, সর্ববৃহৎ শরণার্থী শিবির, রোহিঙ্গাদের অবর্ণনীয় দুঃখ-দুর্দশা, জাতিগত নিধনযজ্ঞ, বিংশ শতাব্দীতেও কিভাবে নারী ও শিশুরা অসহায়ত্বের শিকার হচ্ছে এবং এ সমস্যা সমাধানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ দফা প্রস্তাবনাও তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানের অতিথিদের সামনে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী পোশাক শাড়ী, এর পরিধান পদ্ধতি এবং বিভিন্ন ধরনের শাড়ীর বর্ণনা তুলে ধরা হয়। মিরপুর কাতান, জামদানি, মসলিন, টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ী, ঢাকাই বেনারসি, রাজশাহী সিল্ক এবং কাথা স্টিচ ইত্যাদি শাড়ীর বুনন পদ্ধতি, পরিধানের পদ্ধতি, পরিধানের বিভিন্ন উপলক্ষ্য এসব বিষয় ডক্টর দিলরুবা নাসরিন বিশদভাবে তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন বাংলাদেশের জামদানি শাড়ী বুনন ইউনেস্কো কর্তৃক ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃত। পরবর্তীতে দূতাবাস পরিবারের সদস্যগণ বিভিন্ন ধরনের শাড়ী পড়ে ফ্যাশন সো করেন।
IMG1
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের বিয়ের ঐতিহ্য তুলে ধরার জন্য দূতাবাস পরিবারের শিশু সদস্যদের গায়ে হলুদের সাজে এবং বিয়ের সাজে সাজিয়ে বিয়ের অনুষ্ঠানের প্রতীকী আয়োজন করা হয়। বর ও কনেকে বিয়ের সাজে সাজিয়ে স্টেজে বসানো হয়। অতিথিরা এ আয়োজন দারুনভাবে উপভোগ করেন এবং বর-কনের সাথে স্টেজে অংশগ্রহন করেন। উপজাতি সম্প্রদায়ের পোশাক, বিশেষ করে চাকমাদের সংস্কৃতি একটি নৃত্যের মাধ্যমে প্রদর্শিত হয়। অতিথিরা পরবর্তীতে শাড়ী পরা শেখার একটি পর্বেও অংশগ্রহন করেন। অনুষ্ঠানের পাশাপাশি অতিথিদের বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী খাবারে আপ্যায়িত করা হয়। বিজ্ঞপ্তি।
ইত্তেফাক/রেজা