গোপালগঞ্জের ইটভাটা মালিককে সন্ত্রাসীরা দিনে দুপুরে কুপিয়ে ও জবাই করে নির্মমভাবে হত্যা করেছে।
রবিবার দুপুরে গোপালগঞ্জ শহর থেকে ৫ কিঃমিঃ দক্ষিণ-পশ্চিমে নড়াইল জেলার নড়াগাতী থানার চরসিংগাতী গ্রামে ইটভাটার পাশের সড়কের ওপর এ ঘটনাটি ঘটে।
নিহত আসাদুজ্জামান টিটো শরীফ (৪৪) গোপালগঞ্জ শরীফ ব্রিকসের মালিক ও গোপালগঞ্জ শহরের পাচুড়িয়া এলাকার মোঃ আয়েজ উদ্দিন শরীফের ছেলে।
খবর পেয়ে গোপালগঞ্জের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আসলাম খান, গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসি মোঃ মনিরুল ইসলাম, নড়াগাতী থানার ওসি মোঃ আলমগীর কবিরসহ পুলিশের পদস্থ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।
হত্যাকারীদের গ্রেফতারে গোপালগঞ্জ ও নড়াইল পুলিশ যৌথ অভিযান পরিচালনা করছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। তবে পুলিশ এখনো কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।
ভাটা মালিকের বডিগার্ড দুলাল টৌধূরী (৩৪) জানিয়েছেন, ইটভাটার জমি নিয়ে টিটো শরীফের সঙ্গে গোপালগঞ্জের সীমান্তবর্তী চরসিংগাতী গ্রামের বক্কার চৌধূরী গংদের বিরোধ চলে আসছিলো। শনিবার ওই জমি নিয়ে উভয়পক্ষ শালিশ বৈঠক করে। সালিশ বৈঠকে সবাই টিটো শরীফকে ওই জমিতে কাজ করতে বলেন।
রবিবার সকালে টিটো শরীফ শ্রমিক দিয়ে ওই জমিতে সীমানা বেড়াসহ অন্য কাজ করেন। দুপুর ১২টার কিছু পরে মোটরসাইকেলে করে ওই জমি থেকে গোপালগঞ্জ শহরে রওনা দেন। তার ভাটার সামনে ওৎ পেতে থাকা পলাশ চৌধুরী, সেন্টু চৌধুরী, নতুন চৌধূরী, বক্কার চৌধূরী, রফিকুল ও আব্দুল্লাহর নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী টেটাবিদ্ধ করে তাকে মোটরসাইকেল থেকে ফেলে দেয়। পরে তাকে কুপিয়ে ও জবাই করে মৃত্যু নিশ্চত করে। এ সময় সন্ত্রাসীরা তার ডান হাত কব্জি থেকে বিচ্ছিন্ন করে মধুমতি নদীতে ঝাঁপ দিয়ে পালিয়ে যায়।
নিহতের ভাই আশিকুজ্জামন শরীফ (৩৫) বলেন, আমার ভাইকে পলাশের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা নির্মমভাবে হত্যা করেছে। আমি এ হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।
গোপালগঞ্জের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আসলাম খান বলেন, ইটভাটা মালিককে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে গেছে। আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এ ঘটনায় জড়িতদের নাম পেয়েছি। কিন্তু ঘটনাস্থল নড়াইল জেলার নড়াগাতী থানায়। নড়াইল পুলিশ সুপারকে বিষয়টি জানিয়েছি। জড়িতদের নাম ঠিকানা দিয়েছি। গোপালগঞ্জ ও নড়াইল পুলিশ আসামীদের ধরতে যৌথ অভিযান শুরু করেছে।
ইত্তেফাক/নূহু