নেদারল্যান্ডের গ্রিনহাউজ পরিদর্শনে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী

রোম সনদের ২০তম বার্ষিকী উদযাপনের জন্য দি হেগস্থ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)’র আমন্ত্রণে নেদারল্যান্ড সফরে থাকা জাতীয় সংসদের স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী গ্রিনহাউজ সমৃদ্ধ এলাকা ওয়েস্টল্যান্ড পরিদর্শন করেছেন।
 
শনিবার হেগস্থ দূতাবাস থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
 
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘পরিদর্শনকালে তিনি ডাচ গ্রিনহাউজ চিন্তা-পদ্ধতির সাথে এবং এ বিষয়ে তাদের গভীর উদ্ভাবনী শক্তির সাথে পরিচিত হন। পাশাপাশি ডাচদের উদ্ভাবনাময়ী কৃষির সাথেও পরিচিত হন। অর্কিড চাষ বিষয়ে পৃথিবিখ্যাত ‘টার লাক অর্কিডস’ এবং ‘ওয়ার্ল্ড হরটিকালচার সেন্টার’ পরিদর্শনকালে গবেষণা, উদ্ভাবনী চিন্তা-ভাবনা এবং সৃজনশীলতার সমন্বয়ে কিভাবে বিশালায়তনের গ্রিনহাউজগুলো পরিচালিত হচ্ছে তা দেখে স্পীকার মুগ্ধ হন।’
IMG0
টার লাক অর্কিডস ‘আন্তর্জাতিক গ্রোয়ার ২০১৮’ পদকে ভূষিত হয়েছে এবং ওয়ার্ল্ড হরটিকালচার সেন্টার গবেষণা, শিক্ষা এবং তার বাস্তব প্রয়োগের এক অপূর্ব সমন্বয় যার সাথে সরকার এবং ব্যবসায়ীদের রয়েছে নিবিড় বন্ধন। 
 
ডাচরা যেভাবে একাজ করছে 
 
নেদারল্যান্ড, ইউরোপের একটি ঘনবসতিপূর্ণ দেশ যেখানে প্রতি বর্গমাইলে ১৩০০’র বেশী লোকজনের বসবাস, কৃষির সামগ্রিক উন্নয়নে তাদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টার সমন্বয় ঘটিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরে, মূল্য বিবেচনায়, পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম কৃষি রপ্তানীকারক দেশ নেদারল্যান্ড, অথচ আয়তনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২৭০ গুন ছোট। কিভাবে ডাচরা এই অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করছে? 
 
২০১৭ সালে নেদারল্যান্ড ৯১.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের কৃষিপণ্য রপ্তানী করেছে। এই রপ্তানীর সিংহ ভাগ এসেছে সারাদেশে ছড়িয়ে থাকা বিভিন্ন গ্রিনহাউজ সমূহে উৎপাদিত কৃষিপণ্য রপ্তানী করে। কোন কোন গ্রিনহাউজ আয়তনে ১৭৫ একর। 
 
পরিবেশ নিয়ন্ত্রিত এই গ্রিনহাউজ সমূহ অনেক সবজি যেমন টমেটো, আলু, পিয়াজ ইত্যাদি রপ্তানীতে নেদারল্যান্ডকে শীর্ষস্থানে নিয়ে এসেছে। মূল্য বিবেচনায় নেদারল্যান্ড বিভিন্ন ধরনের সবজি রপ্তানীতে পৃথিবীতে দ্বিতীয়। বীজ ব্যবসায় পৃথিবীর এক-তৃতীয়াংশ বাজারও দখল করে আছে নেদারল্যান্ড। 
 
গ্রিনহাউজে উৎপাদিত সবজি এবং অন্যান্য ফসলে রাসায়নিক কীটনাশকের ব্যবহার ডাচরা প্রায় সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে সক্ষম হয়েছে এবং ২০০৯ সাল থেকে দুগ্ধ খামার ও পোল্ট্রিতে এন্টিবায়োটিকের ব্যবহার ৬০% কমিয়ে এনেছে। 
IMG1
নেদারল্যান্ডের কৃষিতে যে ভবিষ্যৎ উপযোগী টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য করা যায় তা কেবল বড় বড় কোম্পানীর অবদান নয়, দেশটির আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে থাকা ছোট ছোট পারিবারিক খামারীদেরও রয়েছে অবদান। কৃষিক্ষেত্রে ডাচদের এই অভাবনীয় সাফল্যের পিছনের কারিগর অ্যামস্টারডাম শহর থেকে ৫০ মাইল দূরে অবস্থিত ওয়াখেনিংগেন ইউনিভার্সিটি এবং রিসার্চ (ডব্লিউইউআর)। কৃষি বিষয়ক শিক্ষা ও গবেষণায় পৃথিবীর শীর্ষস্থানীয় বিবেচিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ থেকেও প্রতিবছর বেশ ভাল সংখ্যক শিক্ষার্থীরা পড়াশুনা করতে আসে। 
 
গ্রিনহাউজ চাষাবাদে ডাচদের উদ্ভাবনী ও স্বকীয়তার একটি নমুনা দেয়া যেতে পারে। টমেটো বীজ যার মূল্য ৫০ সেন্টেরও কম তা দিয়ে ১৫০ পাউন্ড টমেটো উৎপাদিত হচ্ছে, যা সত্যিই অবিশ্বাস্য! এভাবেই সমগ্র মানবজাতির প্লেটে খাবার সরবরাহে ডাচরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। একজন ডাচ বিজ্ঞানীর ভাষ্যমতে আগামী চার দশকে পৃথিবীকে যে পরিমান খাদ্য উৎপাদন করতে হবে তা বিগত আট হাজার বছরেও কৃষকরা উৎপাদন করতে পারেনি, কেননা ২০৫০ সালে পৃথিবীর জনসংখ্যা হবে ১০ বিলিয়ন, যা এখন ৭.৫ বিলিয়ন। 
 
পানি এবং ফসিল জ্বালানির ব্যাপক ঘাটতির কারণে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হলে ভবিষ্যতে বিলিয়ন বিলিয়ন মানুষ খাদ্য সংকটের মুখোমুখি হতে পারে। একবিংশ শতাব্দীর প্রধানতম সমস্যা হতে পারে খাদ্য সংকট এবং ডাচরা সেই সংকট মোকাবিলায় দূরদর্শী চিন্তা-ভাবনায় কাজ করে চলেছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। 
IMG2
২০১৫ সালের নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেদারল্যান্ড সফরের ধারাবাহিকতায় স্পীকার নেদারল্যান্ড সরকারের সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করে যাবার জন্য দূতাবাসকে সদয় পরামর্শ দেন। প্রধানমন্ত্রীর সফল নেতৃত্বে বাংলাদেশের কৃষি বিজ্ঞানীরাও আমাদের কৃষিতে যে ব্যাপক উন্নয়ন ঘটিয়েছে তার প্রতি ইংগিত করে মাননীয় স্পীকার কৃষিতে দু’দেশের সংশ্লিষ্টদের সংযোগ ঘটাবার পরামর্শ দেন। তিনি আরও আশ্বস্ত করেন যে বাংলাদেশের উপযোগী গ্রিনহাউজ চাষাবাদ পদ্ধতির বিষয়ে তিনি কৃষিমন্ত্রী মাতিয়া চৌধুরীর সাথে প্রয়োজনীয় আলোচনা করবেন। 
 
ইত্তেফাক/রেজা