রাঙ্গুনিয়ায় আমনের বাম্পার ফলন

আমনের ভরা মৌসুম। মাঠে চলছে ফসল কাটার ধুম। কৃষকের উঠানে মাড়াই কলে চলছে ধান মাড়াইয়ের ব্যস্ততা। সব মিলিয়ে রাঙ্গুনিয়ায় কৃষকের ঘরে ঘরে চলছে আমন ফসল ঘরে তোলার মহোত্সব। রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ইউনিয়ন ও পৌরসভার বিলগুলোতে এবার আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন এবং একটি পৌরসভা এলাকায় প্রখ্যাত গুমাইবিলসহ ছোটবড় প্রায় ৮০টি বিলে এবারের আমন মৌসুমে ২০ হাজার হেক্টর  জমিতে আমন ধানের চাষাবাদ হয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে,  ব্রি-৪৯, ব্রি-৫১, ব্রি-৫২, ব্রি-৭৫, পাইজাম, বিআর-১১, বিআর-২২, বিআর-২৩ জাত আমনের চাষাবাদ করেছে কৃষক।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার চন্দ্রঘোনা, হোছনাবাদ, মরিয়মনগর ও স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়া এলাকা পরিবেষ্টিত বিশাল গুমাইবিল। ক্ষেতে পাকা সোনালি আমনের শীষে দিগন্ত বিস্তৃত বিল একাকার হয়ে পড়েছে। কৃষকরা জানান,  অনুকূল আবহাওয়া ও পরিবেশ থাকায় এবার আমন ধানে বিভিন্ন রকমের রোগবালাই কম হয়েছে। ফসল উত্পাদনও  ভালো হয়েছে।

গুমাইবিলের হোছনাবাদ ব্লকের কৃষক আব্দুর রহিম বলেন, দুই কানি (৮০ শতক) জমিতে আমন চাষ করেছি। গত কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর ফলন ভালো হয়েছে। প্রতি কানি জমিতে ৮০ হতে ১ শ আড়ি (১০ কেজিতে প্রতি আড়ি) ফলন হবে বলে আশা করেন তিনি। ধানের বাজার দাম ভালো থাকলে লাভবান হবেন বলেও জানান তিনি।

গুমাইবিল চন্দ্রঘোনা ব্লকের সিআইপি ফসল সমবায় লিমিটেডের সভাপতি ফোরকান উদ্দিন চাষি বলেন, এ বছর ৭ কানি জমিতে আমনের চাষাবাদ করেছি। ব্রি-৪৯ জাত ধান ও স্থানীয় জাত সাদা পাঞ্জা চাষ করেছি। প্রতি কানি জমিতে গড়ে ৯০ আড়ি করে ধান পাওয়ার আশা রয়েছে।

দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ার ৪টি ইউনিয়নে বিলের ভালো ফসল হওয়ায় কৃষকের মুখে দেখা দিয়েছে খুশির ঝিলিক। শিলক ইউনিয়নের তৈলিয়াভাঙ্গাবিল, সরফভাটা, কোদালা এবং পদুয়া বিলে আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে। ঘরে ঘরে নবান্নের আয়োজন। বিলে ধান কাটা আর উঠানে ধান মাড়াইয়ের কষ্টের ফাঁকে নানা পিঠা পুলির আয়োজনে উত্সবমুখর হয়ে উঠেছে আমনের  মৌসুম। শিলক ইউনিয়নের পাখিয়ারটিলা গ্রামের কৃষক কামাল চৌধুরী বলেন, দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ার পদুয়া, শিলক, কোদালা ও সরফভাটা ইউনিয়নের বিলগুলোতে এবারের আমন ফসল খুবই ভালো হয়েছে। পাহাড়ের নিকটবর্তী এলাকায় বিলে এবারের আমন ক্ষেতে বন্যহাতির উত্পাতও কম হয়েছে। প্রাকৃতিক আবহাওয়া অনুকূল থাকায় উত্সবের আমেজে কৃষক ক্ষেতের আমন ফসল ঘরে তুলতে পারছে। কোদালা ইউনিয়ন ব্লকের উপসহকারী কৃষি অফিসার প্রকাশ দত্ত বলেন, ভালো ফসল উত্পাদনের জন্য  ক্ষেতে  বীজ,  সারসহ বিভিন্ন প্রযুক্তির ব্যবহারে কৃষকের প্রতি নিয়মিত পরামর্শ এবং রোপা আমনে পার্চিংসহ প্রযুক্তির ব্যবহার  নিশ্চিত করা হয়েছে।

পদুয়া ইউনিয়নের খুরুশিয়া বিলের কৃষক মোহাম্মদ আব্দুল করিম জানান, সার, কীটনাশকসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহারে কৃষি কর্তৃপক্ষের সহায়তা পাওয়ায় যথাসময়ে জমিতে চাষাবাদ করার সুযোগে এবারের আমনের ফলন ভালো হয়েছে।

রাঙ্গুনিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কারিমা আক্তার বলেন, বিভিন্ন উপকরণ এবং প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণ মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন। এবারের আমন ফসল উত্পাদন ভালো হয়েছে। প্রতিটি মৌসুমে ভালো চাষাবাদ ও কাঙ্ক্ষিত উত্পাদনের জন্য সর্বপ্রকার উপকরণ ও প্রযুক্তি সুবিধার পাশাপাশি কৃষকদের মাঝে হাতে কলমে  প্রশিক্ষণ এবং প্রদর্শনী ক্ষেত করা হয়।