শিক্ষার্থীশূন্য মাদরাসা তবু বেতন পাচ্ছেন শিক্ষকরা

মোজাহারুল উলুম স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা। ১৫ বছর যাবৎ ওই প্রতিষ্ঠানে নেই শিক্ষার্থী। এমনকি হাতে গোনা দুই একটি চেয়ার, টেবিল ও বেঞ্চ ছাড়া মাদরাসাটিতে দেখার মত কিছুই নেই। অথচ ৪ জন শিক্ষক নিয়মিত বেতন ভাতা উত্তোলন করে আসছেন। এ বিষয়ে মাদরাসার দাতা (জমি) সদস্য আনছারুল হক উপজেলা নির্বাহী অফিসার, শিক্ষা অফিসারসহ বিভিন্ন দফতরে অভিযোগও করেছেন।
 
১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত মাদরাসাটির অবস্থান বদরগঞ্জ পৌরশহর হতে ৪ কিলোমিটার দূরে মধুপুর ইউপির রাজারামপুর (শুকানপুকুর) নামক স্থানে।
IMG0
সরেজমিনে দেখা যায়, মাদরাসাটির একটি কক্ষের দরজা নেই। অন্য কক্ষে তালা ঝুলানো। ভাঙ্গা দরজা দিয়ে রুমের মধ্যে প্রবেশ করলে দেখা যায় শিক্ষার্থীদের জন্য দুই একটি টেবিল ও বেঞ্চ। তাও ধুলো বালিতে ভরা। টেবিল বেঞ্চের ধুলোবালি জানান দিচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানে পা দেয়নি কেউ। সেখানে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করার পরও প্রধান শিক্ষক আব্দুল কাদেরের দেখা পাওয়া যায়নি। এমনকি মোবাইল ফোনে চেষ্টা করেও তার মন্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
 
এ সময় এলাকাবাসী আব্দুস ছাত্তার (৫৫) ও ধীরেন রায় (৬৫) জানান, শুরুর দিকে মাদরাসার কার্যক্রম ছিল। তখন কিছু শিক্ষার্থী এ মাদরাসায় নিয়মিত লেখাপড়া করত। কিন্তু গত ১৫ বছর ধরে মাদরাসার কোন কার্যক্রম নেই। শিক্ষকরা শুধু মাস শেষে বেতন ভাতা উত্তোলন করেন।
IMG1
পার্শ্ববর্তী কালজানি উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী আশরাফুল আলম জানান, মোজাহারুল উলুম স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসায় কোন শিক্ষার্থী না থাকায় আমি ৩ বার পঞ্চম শ্রেণির ইবতেদায়ি প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিলাম। আমার মত হাইস্কুলের অনেক শিক্ষার্থী ২শত টাকার বিনিময়ে ওই মাদরাসায় ইবতেদায়ি প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নেয়।
 
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ফজলে এলাহি জানান, ‘মোজাহারুল উলুম স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসার অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
 
বদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাশেদুল হক জানান, ‘এ সংক্রান্ত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখছি। অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ 
  
ইত্তেফাক/বিএএফ