বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এই টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের অনেক মাহাত্ম্য আছে। বিদেশের মাটিতে এটা বাংলাদেশের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়। এই নিয়ে দ্বিতীয়বার মাত্র একাধিক ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতল বাংলাদেশ। তবে অধিনায়ক সাকিব আল হাসান বড় করে দেখতে চাইছেন, পিছিয়ে পড়েও ফিরে এসে সিরিজ জয়ের ব্যাপারটাকে। সিরিজের প্রথম ম্যাচ হারের পরও ফিরে এসে সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। আর এটাতেই বেশি খুশী বাংলাদেশ দল।
সাকিব বলছিলেন, প্রথম ম্যাচে হারের পর যে দৃঢ়তা বাংলাদেশ দল দেখিয়েছে, সেটা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। এমনকি যারা মাঠে খেলেননি, তাদেরও একটা ভালো ভূমিকা দেখছেন তিনি, ‘প্রথম ম্যাচে হারার পর আমরা দারুণ দৃঢ়তা দেখিয়েছি। ছেলেদের এই প্রচেষ্টা ছিল অবিশ্বাস্য। যারা খেলেনি তাদেরও যথেষ্ট অবদান আছে। যেভাবে পেরেছে সহায়তার চেষ্টা করেছে। এর চেয়ে বেশি কিছু আমি ছেলেদের কাছ থেকে চাইতে পারতাম না।’
টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের রেকর্ড কখনোই ভালো না। কিছুদিন আগে আফগানিস্তানের মতো দলের বিপক্ষে হোয়াইট ওয়াশ হয়েছে তারা। সেখানে এখন বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন দলের বিপক্ষে জয়টা অনেক বড় ব্যাপার বলেই বলছিলেন অধিনায়ক, ‘আমরা বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে খেলেছি, নিজেদের দৃঢ়তা দেখিয়েছি। এখান থেকে আমরা অনেক আত্মবিশ্বাস নিতে পারি। টি-টোয়েন্টিতে আমরা খুব একটা ভালো করি না, রেকর্ডও সেই কথা বলছে। টি-টোয়েন্টিতে আমাদের ভালো পারফরম্যান্স খুব একটা নেই। আশা করি, আমরা এখান থেকে এগিয়ে যেতে পারব।’
প্রথম ম্যাচে হারার পর বাংলাদেশ এই প্রথম জিতল কোনো টি-টোয়েন্টি সিরিজ। সাকিব মনে করেন, এখান থেকেই শুরু হবে তাদের নতুন পথ চলা, ‘এই টি-টোয়েন্টি সিরিজ আমাদের আত্মবিশ্বাসী করবে, আমরা এখন যে কোনো বড় দলকে হারাতে পারি। আমরা এখন জানি কি করে ম্যাচ জিততে হয়। কিছু ‘টাইট’ ম্যাচ আমরা শেষদিকে হেরে গেছি। তেমন ম্যাচে এখন জেতা শুরু করেছি। আশা করি, আমরা এটা ধরে রাখতে পারব।’
যুক্তরাষ্ট্রে এই প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলল বাংলাদেশ। দুটি ম্যাচেই প্রবাসী অনেক বাংলাদেশি এসেছিলেন মাঠে। এই দর্শকদের উত্সাহ যে দলের খুব কাজে লেগেছে, সেটা সাকিব স্বীকার করলেন। বললেন, এই দর্শকরা ছিলেন তাদের দ্বাদশ ব্যক্তি, ‘এখানে প্রচুর দর্শক ছিল। অনেকেরই কালকের ম্যাচের পর ফিরে যাওয়ার কথা ছিল কিন্তু এই ম্যাচের জন্য যাননি। আমাদের কখনও মনে হয়নি দেশের বাইরে খেলছি। লম্বা সফরের শেষে এসে এমন সমর্থন আমাদের উত্সাহ জুগিয়েছে। তারা যেন ছিলেন আমাদের দ্বাদশ ব্যক্তি।’
ইত্তেফাক/কেআই