রানা প্লাজা ধস: ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনে এখনও সংগ্রাম করছেন শ্রমিকরা

সাভারের রানা প্লাজা ধ্বংসের ৬ বছর পূর্তি ২৪ এপ্রিল। ২০১৩ সালের এই দিনে সাভার বাসস্ট্যান্ডে যুবলীগ নেতা সোহেল রানার নয়তলা বাণিজ্যিক ভবন ‘রানা প্লাজা' ধসে পড়ে। ঘটনার সময় ভবনের পাঁচটি পোশাক কারখানায় কয়েক হাজার শ্রমিক কাজ করছিল।

পোশাক শ্রমিকরা সকাল ৮টায় কারখানায় প্রবেশ করে কাজে যোগ দেয়। সকাল সোয়া ৮টায় বিশ্বের ভয়াবহতম এ ভবন ধ্বসের ঘটনায় এক হাজার ১৩৮ জন মারা যায়। আহত হয় দুই হাজার শ্রমিক। এখনো নিখোঁজ অনেকে।

ভবন ধ্বসের ৬ বছর পার হলেও অনেক নিহত শ্রমিকদের স্বজন ও আহত শ্রমিকরা পায়নি প্রয়োজনীয় ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের সুবিধা। ফলে অর্থাভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা নিতে না পারায় স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেনি অনেক আহত শ্রমিক। ভবন ধ্বসে ক্ষতিগ্রস্তের শিকার শ্রমিকদের আজও তাদের অধিকার ও ক্ষতিপূরণের জন্য সংগ্রাম করতে হচ্ছে।

১১ দফা দাবিতে রানা প্লাজার আহত শ্রমিকরা অনশন কর্মসূচি পালন করছেন। মঙ্গলবার থেকে রানা প্লাজার সামনে এ আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন শুরু করেন তারা।

শ্রমিকদের ১১ দফা দাবি গুলো হচ্ছে, রানা প্লাজার সকল ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, সকলকে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে, আজীবন চিকিৎসা করাতে হবে, জাতীয় রানা প্লাজা শোক দিবস ঘোষণা করতে হবে, আহত ও নিহত সকল শ্রমিকদের সন্তানদের লেখাপড়ার দায়িত্ব নিতে হবে, সকল আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি দিতে হবে, আসামিদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করতে হবে, উদ্ধার কর্মীদের চিকিৎসা করাতে হবে, স্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করতে হবে, আহত নিহত ও ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের পরিবারের চিকিৎসা করাতে হবে এবং রানা প্লাজা ধ্বসে ক্ষতিগ্রস্তদের চাকরি দিতে হবে। দাবিগুলো মানা না হলে শ্রমিকরা আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করবেন বলে জানান।

ইত্তেফাক/জেডএইচ