'নাইজেরিয়া বাংলাদেশ থেকে কৃষিক্ষেত্রে অনেক কিছু শিখতে পারে' নাইজেরিয়ার কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী সিনেটর হ্যানিক্যান লোকপোবিরি এ কথা বলেছেন। বাংলাদেশের হাইকমিশনার মোঃ শামীম আহসান, এনডিসির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতকারের সময় তিনি এ মন্তব্য করেন।
হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে ১৮ সেপ্টেম্বরে দুপক্ষের বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক গভীরতর ও বিস্তৃত করার উপরে গুরুত্ব আরোপ করা হয়। সাক্ষাতের শুরুতে হাইকমিশনার বাংলাদেশের কৃষি মন্ত্রীর শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অর্জিত অভূতপূর্ব সাফল্যের ব্যাপারে অবগত করেন। বিদ্যমান উষ্ণ সম্পর্ককে আরো অর্থবহ করার জন্য উভয়পক্ষ দুইদেশের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ করে কৃষিক্ষেত্রে সহযোগিতা এবং ব্যবসা বাণিজ্য সম্প্রসারণের উপরে বিশেষ জোর দেন। উল্লেখ্য, নাইজেরিয়া আফ্রিকার বৃহত্তম অর্থনীতি এবং বিশ্বের ষষ্ঠ বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী দেশ।
বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রস্তাবিত কৃষিক্ষেত্রে দুইদেশের মধ্যে সহযোগিতা বিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক বর্তমানে নাইজেরিয়া সরকারের বিবেচনাধীন। প্রতিমন্ত্রী বিষয়টি ত্বরায়নের জন্যে আশু পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস প্রদান করেন। হাইকমিশনার শামীম আহসান বাংলাদেশে কৃষিক্ষেত্রে 'নীরব বিপ্লবে'র কথা উল্লেখ করে এক্ষেত্রে বাংলাদেশী কৃষি বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবিত নানাবিধ ধানের বীজের অবদানের কথা বিশেষভাবে তুলে ধরেন।
ভৌগলিকভাবে ক্ষুদ্র আয়তনের ১৬ কোটি জনসংখ্যা অধ্যুষিত বাংলাদেশ কিভাবে বর্তমান সরকারের দূরদর্শী নীতির কারণে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে তা জেনে মন্ত্রী অত্যন্ত উৎসাহিত বোধ করেন। কৃষি ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে নাইজেরিয়া প্রভূত উপকৃত হতে পারে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন। বাংলাদেশের হাইকমিশনার নাইজেরিয়াতে অনুষ্ঠিতব্য 'অ্যাগ্রিটেক নাইজেরিয়া ২০১৮' তে বাংলাদেশের অংশগ্রহনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন এবং বলেন বাংলাদেশের অংশগ্রহনের মধ্য দিয়ে অন্যরা কৃষিক্ষেত্রে বাংলাদেশের যুগান্তকারী সাফল্য সম্পর্কে ধারণা লাভে সক্ষম হবেন। বৈঠক শেষে হাইকমিশনার নাইজেরিয়ার কৃষি প্রতিমন্ত্রীকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত 'আনফিনিশড মেমোরয়ারস' এর একটি কপি উপহার দেন।
হাইকমিশনের হেড অফ চ্যান্সারী জনাব মোহাম্মদ শাহ ইকরামুল হক ও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
ইত্তেফাক/নূহু