বাংলাদেশে সদ্য পাশ হওয়া ডিজিটাল নিরাপত্তা অাইনের কয়েকটি ধারার সংশোধন চেয়েছেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী সাংবাদিকরা। অাইনটির কিছু ধারা সংশোধন, বাংলাদেশে পেশাদার ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা সমুন্নত রাখাতে লন্ডনে সাংবাদিকদের প্রতীকী কর্মবিরতী, মানববন্ধন ও সমাবেশ থেকে এ দাবী জানানো হয়।
সোমবার বিকেলে পূর্ব লন্ডনের অালতাব অালী পার্কে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে লন্ডনে বাংলা মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিক, কলা-কুশলী, লেখক, কবি, সাহিত্যিক ও কলামিস্টরা অংশ নেন।
বিবিসি ও ভয়েস অব অামেরিকার সাবেক ইন্টারন্যাশন্যাল ব্রডকাস্টার সাংবাদিক ও লেখক শামীম চৌধুরীর সভাপতিত্বে, সাংবাদিক মুনজের অাহমদ চৌধুরী ও সাইদুল ইসলামের যৌথ পরিচালনায় সভায় সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক ড. রেনু লুৎফা, বাংলাদেশ জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি কেএম অাবু তাহের চৌধুরী, নিউহ্যাম কাউন্সিলের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার নাজির অাহমেদ, কলামিস্ট বিপ্লব পোদ্দার, ব্যারিস্টার একেএম হাসনাত, ব্রিট বাংলার নির্বাহী সম্পাদক অাহাদ চৌধুরী বাবু, বাংলাভাষী সম্পাদক অলিউর রহমান খান, ওয়ান বাংলার সম্পাদক কয়েস অালী, লন্ডন বিডিনিউজের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক রোমান বখত চৌধুরী, লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের বিভাগীয় সম্পাদক সালেহ অাহমদ, কবি শিহাবুজ্জামান কামাল, চ্যানেল এস এর রেজাউল করিম মৃধা, বাহার উদ্দীন, নুর বখশ, তরিকত চৌধুরী প্রমুখ।
সভায় বক্তারা বলেন, অাইনের কয়েকটি ধারা গণমাধ্যম ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার বিরোধী। এ অাইনে সাংবাদিকদের সুরক্ষার প্রশ্নে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। তথ্য অধিকার অাইন ও অফিসিয়াল সিক্রেসি অাইন দুটি বিদ্যমান রাখায় বরং এটি পরস্পর বিরোধী অবস্থানের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশকে বিনা গ্রেফতারি পরোয়ানায় গ্রেফতার ও তল্লাশির ক্ষমতা দেবার মধ্য দিয়ে সাংবাদিকতাকে বাধাগ্রস্থ করার ঝুঁকির সৃষ্টি হয়েছে।
বক্তারা বলেন, অাইনটি পাশ হবার বেশ কয়েকদিন অতিবাহিত হলেও কয়েকটি বিবৃতি ছাড়া বাংলাদেশে সাংবাদিকদের কোন কর্মসূচি অামরা দেখিনি। এ অাইনের বিতর্কিত ও সাংঘর্ষিক ধারাগুলো বাতিলের দাবীতে দেশে ও প্রবাসে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের গণমাধ্যমে যুক্তরাজ্যে কর্মরত সাংবাদিকদের ব্যানারে এ কর্মসূচি দেওয়ায় অায়োজকদের ধন্যবাদ জানান প্রায় সকল বক্তা।
সভায় বক্তারা ডিজিটাল নিরাপত্তা অাইন ২০১৮ এর ৮, ২১, ২৫, ২৮, ২৯, ৩১, ৩২, ৪৩ ও ৫৮ ধারা পুনর্বিবেচনা করে সংশোধনের দাবী জানান।
ইত্তেফাক/আরকেজি