বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের গৌরবময় ইতিহাসসহ বিভিন্ন তথ্য সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার উদ্দেশ্যে রাজশাহীর বাগমারায় নির্মাণ করা হয়েছে দেশের প্রথম ডিজিটাল যাদুঘর কার্যালয় ‘বঙ্গবন্ধু স্মৃতি যাদুঘর কমপ্লেক্স।’ নতুন প্রজন্মের কাছে স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার জন্য এ উদ্যোগ গ্রহন করা হয়েছে। তাই ধীরে ধীরে নতুন প্রজন্মের কাছে আকর্ষনীয় স্থান হয়ে উঠছে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি যাদুঘর কমপ্লেক্স।
এছাড়া বাগমারা উপজেলার ইতিহাস-ঐতিহ্য ও সার্বিক উন্নয়ন এবং বিভিন্ন এলাকার তথ্য অল্প সময়ের মধ্যে দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে দেওয়া যাবে এখানকার কার্যক্রমের মাধ্যমে। এজন্য ছয় তলাবিশিষ্ট অত্যাধুনিক বঙ্গবন্ধু স্মৃতি যাদুঘর কমপ্লেক্সটি তৈরি করা হয়েছে। দেশে এটিই প্রথম আওয়ামী লীগের ডিজিটাল কার্যালয়। এর আগে এ ধরণের কোন কার্যালয় দেশে স্থাপিত হয়নি।
উপজেলা সদর ভবানীগঞ্জ পৌরসভার চাঁনপাড়া মহল্লায় এ কমপ্লেক্সটি নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার পর থেকেই এখানে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন দর্শনার্থীর আগমন বেড়ে চলেছে। তরুণ ও নতুন প্রজন্মরা জানতে পারছে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস।
আওয়ামী লীগ দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর স্থানীয় সংসদ সদস্যের উদ্যোগে এ ভবনটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ভবানীগঞ্জ তাহেরপুর সড়কের পাশে চাঁনপাড়ায় ১৩ শতক জমি জননেত্রী শেখ হাসিনার নামে ক্রয় করে ছয়তলা বিশিষ্ট নিজস্ব ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। এটি নির্মাণে স্থানীয় সংসদ সদস্য ব্যক্তিগতভাবে অনুদান প্রদান করেন।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতির প্রতি সম্মান রেখে আওয়ামী লীগের ডিজিটাল এই কার্যালয়টির নাম রাখা হয়েছে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি যাদুঘর কমপ্লেক্স। এজন্য বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্ট থেকে অনুমতিও নেওয়া হয়েছে। এখানে রয়েছে বহুবিধ কার্যক্রমের ব্যবস্থা। ছয়তলা এই ভবনটির পঞ্চম তলায় রয়েছে স্থানীয় সংসদ সদস্যের কার্যালয়। একইসঙ্গে রয়েছে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের পৃথক পৃথক দপ্তর।
কমপ্লেক্সটির দ্বিতীয় তলায় রয়েছে সালেহা-ইমারত মিলানায়তন। দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে ভবনটির একটি তলায় স্থাপন করা হবে ভোকেশনাল ট্রেনিং ইন্সটিটিউট। এছাড়া তৃতীয় তলায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের গৌরবময় ইতিহাসসহ বিভিন্ন তথ্য সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার জন্য গড়ে তোলা হয়েছে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর। সেখানে রয়েছে বঙ্গবন্ধু ও স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতিময় ভাস্কর্য এবং দূর্লভ বেশ কিছু ছবি।
এলাকার জনগণ তাদের সমস্যা যাতে সংসদ সদস্যকে কিংবা দলীয় প্রধানদের জানাতে পারেন সে জন্য এখানে একটি হেল্প ডেস্কেরও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ভবনটির বিভিন্ন তলায় দ্রুত ওঠা-নামার জন্য রয়েছে লিফটের ব্যবস্থা। এখানে দিনে-রাতে পর্যায়ক্রমে ৩/৪ জন দায়িত্বে রয়েছেন। তারাই এর রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করেন। এর ব্যয়ভারও বহন করা হয় সাংসদের উদ্যোগে।
২০১৩ সালের ৫ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কমপ্লেক্সটির উদ্বোধন করেন। ইতিমধ্যে বাগমারায় এসে কমপ্লেক্সটির কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, স্বাস্থ্য বিষয়ক উপদেষ্টা ডাঃ সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী, সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী এ্যাড. সাহারা খাতুন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ নাসিম, প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সহকারী সাইফুজ্জামাসন শেখর, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মোতাহার হোসেন, বর্তমান রাজশাহী সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, সাবেক শিল্প প্রতিমন্ত্রী ওমর ফারুক চেীধরী, এমপি মেরাজউদ্দিন মোল্লাহ, ইস্রাফিল আলম, শাহরিয়া আলম, আব্দুল ওয়াদুদ দারা, অনেক মন্ত্রী ও এমপি এবং বিভিন্ন দেশের পর্যটকরা।
ভবনটি উদ্বোধনের পর এখানে থেকে প্রতি সপ্তাহের একটি তালিকা তৈরি করে তা স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে প্রেরণ করা হয়। এখানে সরকারের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ কর্মকাণ্ড এলাকাবাসীর সুবিধার জন্য বোর্ডে লিপিবদ্ধ থাকে। এমনকি এলাকার কি কি কাজ করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে পর্যায়ক্রমে কি কি কাজ করা হবে তারও একটি তালিকা সাঁটানো থাকে। এতে করে উপজেলাবাসীর কাছে স্পষ্ট হয় কোন উন্নয়নমূলক কাজটি এবার বাস্তবায়ন হচ্ছে, কোনটি আগামী বছর কিংবা তার পরে হবে সেটাও জানতে পারবেন এলাকার লোকজন। তাছাড়াও ভবনটির অন্যান্য তলায় হোটেল-রেষ্টুরেন্টসহ যাবতীয় সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
বর্তমানে এই কমপ্লেক্সের বঙ্গবন্ধু জাদুঘর পরিদর্শন করে চলেছেন উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কয়েক হাজার শিক্ষক শিক্ষার্থী। এ প্রসঙ্গে ভবানীগঞ্জ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষ হাতেম আলী জানান, আমাদের নতুন প্রজন্ম এই কমপ্লেক্সের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানতে সক্ষম হবে। এর মাধ্যমে নতুন প্রজম্মের মাঝে দেশপ্রেম জাগ্রত হবে।
বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের প্রতিষ্ঠাতা বাগমারা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এমপি এনামুল হক বলেন, আমি আজীবন জনগণের কল্যাণে কাজ করে যেতে চাই। প্রত্যন্ত এলাকার আপামর জনসাধারণ স্বাধীনতার পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী প্রজন্ম যেন বঙ্গবন্ধু ও স্বাধীন বাংলাদেশের প্রকৃত ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারে সে লক্ষ্যেই এটি তৈরি করা হয়েছে।
ইত্তেফাক/নূহু