এক-চতুর্থাংশ আসনেই ধানের শীষের প্রার্থী হতে চান নারীরা

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে ভোটের লড়াইয়ে নামতে চান বিপুল সংখ্যক নারী। যাদের বেশীরভাগই ছাত্রদল ও মহিলা দলের নেত্রী, সংরক্ষিত আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের স্ত্রী, কন্যা। বিএনপির দফতর সুত্র জানায়, দলের মনোনয়ন ফরম কিনেছিলেন প্রায় সাড়ে ৭ শত নারী। তাদের মধ্যে ৩০০ জনের বেশি ফরম জমা দিয়ে দলের পার্লামেন্টারী বোর্ডে সাক্ষাতকার দিয়েছেন। এসব নারী নেত্রী মনে করছেন, পুরুষের সমানতালে তারা আন্দোলন ও নির্বাচন করতে পারবেন। ইতিমধ্যে দলের প্রার্থী তালিকা চুড়ান্ত হয়েছে। সূত্র মতে, প্রায় দুই ডজন নারী প্রার্থী সরাসরি বা বিকল্প মনোনয়ন পাচ্ছেন।

দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দুর্নীতির মামলায় কারাগারে থাকলেও তার পক্ষে বগুড়া-৬ ও ৭ এবং ফেনী-১ আসনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। ঢাকা-৯ আসনে            ধানের শীষ চান দলের স্বনির্ভর সম্পাদক ও নব্বইয়ের ছাত্র আন্দোলনের নেত্রী শিরিন সুলতানা। তবে তাকে দেয়া হচ্ছে না বলে জানা গেছে। ঢাকা-১৩ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী হেলেন জেরিন খান। তবে ফরিদপুর থেকে তাকে দেয়া হতে পারে। ফরিদপুর-২ আসন থেকে মনোনয়ন পাচ্ছেন শামা ওবায়েদ। বরিশাল-৪ ও ৫ আসন থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে সাক্ষাতকার দিয়েছেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা, ফেনী-২ আসনে রেহানা আক্তার রানু, চাঁদপুর-৪ আসনে রাশেদা বেগম হীরা, জামালপুর-৫ আসনে নিলুফার চৌধুরী মনি, হবিগঞ্জ-৪ আসনে শাম্মী আক্তার, নাটোর-১ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে মনোনয়ন চেয়েছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়া। অন্যদিকে, বান্দরবান থেকে মা ম্যা চিং দলীয় মনোনয়ন চান। সংস্কারপন্থী থেকে দলে ফেরা ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো ঝালকাঠি-২ আসনে লড়তে চান। জামালপুর-১ আসনে শাহিদা আক্তার রিতা মনোনয়ন প্রত্যাশী। প্রয়াত নাসিরউদ্দীন আহমেদ পিন্টুর বোন ও ঢাকা মহানগর উত্তরের সহসভাপতি ফেরদৌস আহমেদ মিষ্টি মনোনয়ন চেয়েছেন ঢাকা-১৪ আসন থেকে।

এদিকে, সিলেট-১ আসনে নুরুন্নাহার বেগম, সিলেট-৬ আসনে হাদিয়া চৌধুরী মুন্নী চেয়েছেন মনোনয়ন। মৌলভীবাজার-৩ আসনে মনোনয়ন চান সাবেক সংসদ সদস্য খালেদা রব্বানী, বরিশাল সদর আসনে ছাত্রদলের নেত্রী আফরোজা খানম নাসরিন, ঝালকাঠি-১ আসনে মমতাজ বেগম, ময়মনসিংহ-১১ আসনে নূরজাহান ইয়াছমিন, চট্টগ্রাম-১০ আসনে মনোয়ারা বেগম মনি, চট্টগ্রাম-২ আসনে নুরে আরা সাফা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর জেসমিনা খানম, চট্টগ্রাম-৬ আসনে ফরিদা আকতার, চট্টগ্রাম-৯ আসনে বেগম ফাতেমা বাদশা ও চট্টগ্রাম-১৫ আসনে জান্নাতুল নাঈম চৌধুরী রিকু, গাজীপুর-৩ আসনে ফরিদা ইয়াসমিন স্বপ্না, বাগেরহাট-১ আসনে রুনা গাজী, কুড়িগ্রাম-৪ আসনে সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম হোসেনের মেয়ে মমতাজ হোসেন লিপি, ময়মনসিংহ-৪ আসনে মহিলা দলের নেত্রী মির্জা ফারজানা রহমান হোসনা, শরীয়তপুর-৩ আসনে আল আসমাউল হোসনা, পাবনা-৩ আসনে আরিফা সুলতানা রুমা (বর্তমানে কারাবন্দি), পাবনা-১ আসনে খায়রুন নাহার খানম, নেত্রকোনা-২ আসনে আরিফা জেসমিন নাহিন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনে মিনারা বেগম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনে নায়লা আক্তার ও মুসেনা আক্তার, নীলফামারী-৪ আসনে বিলকিস ইসলাম, নেত্রকোনা-৫ আসনে বেগম রাবেয়া আলী, সিরাজগঞ্জ-৪ আসনে সিমকী ইমাম খান, ফেনী-৩ আসনে শাহানা আক্তার শানু, বাগেরহাট-৩ আসনে আয়েশা সিদ্দিকা মানী, ময়মনসিংহ-৩ আসনে তানজীন চৌধুরী লিলি, কিশোরগঞ্জ-১ আসনে হোসনে আরা গিয়াস, কুষ্টিয়া-২ আসনে ফরিদা ইয়াসমিন, কুষ্টিয়া-৪ আসনে ফরিদা মনি, রাজশাহী-৫ আসনে মাহবুবা হাবিবা, ঝালকাঠি-২ আসনে জেবা আহমেদ খান, পটুয়াখালী-১ আসনে সুরাইয়া আকতার, পটুয়াখালী-২ আসনে চৌধুরী সালমা আলম,পটুয়াখালী-৩ আসনে সহকারী অধ্যাপক লায়লা ইয়াসমিন তালুকদার,বরিশাল-৫ আসনে আফরোজা খানম নাসরীন, ঝালকাঠি-২ আসনে শাহজাদি কোহিনুর, পিরোজপুর-১ আসনে এলিজা জামান, বরিশাল-৪ আসনে শাহনেওয়াজ বেগম, ঢাকা-৪ আসনে খালেদা আলম সহ বহু নারী বিএনপির মনোনয়ন ফরম কেনেন।

নেতাদের স্ত্রী-কন্যারা চান মনোনয়ন:মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদন্ড কার্যকর হওয়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর সহধর্মিণী ফরহাত কাদের চৌধুরী চট্টগ্রাম-৭ আসনে মনোনয়ন পাচ্ছেন। কারাবন্দি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়ার স্ত্রী শাহিদা রফিক ঢাকা-১৬ আসনে মনোনয়ন চেয়েছেন। সিলেট-২ থেকে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও বিএনপির নিখোঁজ নেতা এম ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা মনোনয়ন পাচ্ছেন। নেত্রকোনা-৪ আসনে মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন লুত্ফুজ্জামান বাবরের স্ত্রী তাহমিনা জামান। কক্সবাজার-১ আসনে সালাহউদ্দিন আহমেদের স্ত্রী হাসিনা আহমেদ মনোনয়ন পেয়েছেন। ঢাকা-৯ আসন থেকে মির্জা আব্বাসের স্ত্রী ও মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাসও মনোনয়ন চান। ঢাকা-৭ আসনে বিএনপির কেন্দ ীয় নেতা প্রয়াত নাসিরউদ্দীন পিন্টুর স্ত্রী নাসিমা আক্তার কল্পনা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। নওগাঁ-৩ আসনে বিএনপির মনোনয়ন চেয়েছেন মরহুম ডেপুটি স্পিকার আখতার হামিদ সিদ্দিকীর স্ত্রী নাসরিন আরা সিদ্দিকী। পঞ্চগড়-২ আসনে মরহুম সংসদ সদস্য মোজাহার হোসেনের স্ত্রী নাদিরা আখতার, নাটোর-১ আসনে সাবেক যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ফজলুর রহমান পটলের স্ত্রী কামরুন্নাহার শিরীন ও চাঁদপুর-১ আসনে মনোনয়ন পাচ্ছেন সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী কারারুদ্ধ এহছানুল হক মিলনের স্ত্রী নাজমুন নাহার বেবি। নোয়াখালী-৩ আসনে মনোনয়ন চেয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লাহ বুলুর স্ত্রী শামীমা বরকত লাকী। সিরাজগঞ্জ-২ আসনে চান বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর স্ত্রী সাবেক এমপি রুমানা মাহমুদ। নাটোর-২ আসনে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর সহধর্মিণী সাবিনা ইয়াসমিন ছবি, যশোর-৪ আসনে টি এস আইয়ুবের স্ত্রী তানিয়া রহমান সুমী, যশোর-৫ আসনে সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম আফসার আহমেদ সিদ্দিকীর স্ত্রী জাহানারা বেগম মনোনয়ন চাইছেন। টাঙ্গাইল-৪ আসনে কাজী সিরাজের স্ত্রী রাবেয়া সিরাজ ও শরীয়তপুর-৩ আসনে সাবেক সংসদ সদস্য হেমায়েত উল্যাহ আওরঙ্গজেবের স্ত্রী তাহমিনা আওরঙ্গ চেয়েছেন ধানের শীষ। সাবেক মন্ত্রী হারুনার রশিদ মুন্নুর মেয়ে।

মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি আফরোজা খান রিতা মানিকগঞ্জ-৩ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন। চট্টগ্রাম-৫ আসনে সাবেক সংসদ সদস্য ওয়াহিদুল আলমের মেয়ে শাকিলা ফারজানা, ঢাকা-৩ আসন থেকে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ  রায়ের মেয়ে অপর্ণা রায়, একই আসন থেকে গয়েশ্বরের পুত্রবধূ ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই চন্দ  রায় চৌধুরীর মেয়ে নিপুণ রায়, ঢাকা-১ থেকে ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নানের মেয়ে মেহনাজ মান্নান ও সাবেক নেতা নাজমুল হুদার মেয়ে অন্তরা সেলিমা হুদা চেয়েছেন বিএনপির মনোনয়ন।

নারী শিল্পীরাও আগ্রহী:নীলফামারী-৪ আসনে কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনীন, সিরাজগঞ্জ-১ আসনে কণ্ঠ শিল্পী কনক চাঁপা ও চিত্রনায়িকা শাহরিয়ার ইসলাম শায়লা ফরিদপুর-৪ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে লড়তে চান। তাদের দল থেকে মূল্যায়ন করার সম্ভাবনা আছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, আমাদের দলে পুরুষের পাশাপাশি নারীদের অবদান অনেক। আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথে সামনের কাতারে আছেন তারা। গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। এবার বিপুল সংখ্যক নারী ধানের শীষে প্রার্থী হতে চান। এটা ইতিবাচক লক্ষন। মনোনয়নের ক্ষেত্রে তাদের মূল্যায়ন করা হবে।