শেখ হাসিনার সরকার আবারো দরকার : ফরাসি সংসদ সদস্য

বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং অভ্যন্তরীণ সমস্যা মোকাবেলার জন্য শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার পুনরায় নির্বাচিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ফরাসি সংসদ সদস্য জ্য ফ্রাসোয়া এমবায়ে। 
 
মঙ্গলবার ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের একটি অভিজাত সেমিনার কক্ষে ‘রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং শেখ হাসিনার মানবতা’ শীর্ষক এক সেমিনারে বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আলোচনার এক পর্যায়ে এ কথা বলেন তিনি। 
 
ফ্রান্স ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ফ্রান্স-বাংলা সেন্টার ফর কম্যুনিকেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এফবিসিসিডি) আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন ফরাসি জাতীয় সংসদের পররাষ্ট্র বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সদস্য জ্য ফ্রাসোয়া এমবায়ে। সম্মানিত অতিথি ছিলেন ফ্রান্সে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদুত কাজী ইমতিয়াজ হোসেন। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন প্রতিষ্ঠানটির প্রেসিডেন্ট ফারুক নওয়াজ খান। 
 
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জ্য ফ্রাসোয়া বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধান হওয়া দরকার। তাদের জন্য স্থায়ী পরিচয়পত্র দেয়া হলেই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সফল হবে বলে মনে করেন তিনি। মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের সে দেশে প্রত্যাবাসনের পর যেন আবার তাদের ফেরত পাঠানো না হয় সেদিকটি নিশ্চিত করার দরকার। 
 
ফ্রান্স সরকার ইতিমধ্যে রোহিঙ্গাদের জন্য আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছে উল্লেখ করে এ সংসদ সদস্য বলেন, আমরা এ সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধান চাই। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সে দেশের উপকূল অঞ্চলে দশ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে বিশ্ব মানবতার অঙ্গনে একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ফ্রান্স সরকার সেটা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে। এ সমস্যা সমাধানে ফ্রান্স সরকার সব সময় বাংলাদেশের পাশে থাকবে। 
 
বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আলোচনার এক পর্যায়ে প্রধান অতিথি বলেন, দেশটির রাজনৈতিক ও অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার জন্য শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার পুননির্বাচিত হলে ভাল হয়। বাংলাদেশের আর্থসামাজিক সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সফল বলে মনে করেন তিনি। 
 
সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে ফ্রান্সে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদুত কাজী ইমতিয়াজ হোসেন বলেন, বাংলাদেশের সরকার রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘে এ বিষয়ে যে সব প্রস্তাবনা তুলে ধরেছেন সেগুলোর ভিত্তিতেই সমাধান হওয়া দরকার বলে তিনি জানান। 
 
রাষ্ট্রদুত বলেন, শরণার্থীদের জন্য তিনটি রাস্তা খোলা থাকে। তাদের ফিরিয়ে দেয়া, তৃতীয় কোন দেশে পাঠিয়ে দেয়া অথবা সংশ্লিষ্ট দেশের মূল স্রোতে মিলিয়ে দেয়া। রোহিঙ্গাদের ক্ষেত্রে এ তিনটির একটিও প্রয়োগ করা যাচ্ছে না। মিয়ানমারের সৃষ্ট এ সমস্যা তাদেরই সমাধান করতে হবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রদুত বলেন, আমাদের সরকার এবং প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে যথেষ্ট মানবিক, তবে এ সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধান কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমেই সম্ভব। 
 
মূল প্রবন্ধে প্রবাসী সাংবাদিক ও রাজনীতিক ফারুক নওয়াজ খান বলেন, বাংলাদেশের সরকার এবং জনগণ যদি মিয়ানমারের মতো অমানবিক হতো তাহলে এ বিশাল সংখ্যক জনগোষ্ঠীর প্রাণ হারাতে হতো। তারা পেতো না কোন আশ্রয়। প্রতিটি মানুষের রয়েছে বেঁচে থাকার অধিকার। কিন্তু মিয়ানমানর সরকার রোহিঙ্গাদের এ অধিকার হরণ করেছে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গোষ্ঠীর অনুরোধ স্বত্বেও। 
 
সেমিনারের সফলতা এবং প্রধানমন্ত্রীর মানবতা নিয়ে টেলিফোনে বক্তব্য রাখেন সর্ব ইউরোপীয়ান আওয়ামী লীগের সভাপতি অনিল দাশ গুপ্ত। এ ছাড়া আরো বক্তব্য রাখেন মানবাধিকার আইনজীবী এরল ডমির, ফ্রান্স আওয়ামী লীগের সভাপতি বেনজির আহমেদ সেলিম, ফ্রান্স আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক শাহীন আরমান চৌধুরী, ফ্রান্স প্রবাসী সাংবাদিক অধ্যাপক শামসুল ইসলাম প্রমুখ।
 
ইত্তেফাক/ইউবি