সখীপুরে শাল গজারি গাছ ভর্তি ট্রাক ও প্রাইভেটকারসহ ৭ জনকে গ্রেপ্তার

টাঙ্গাইলের সখীপুর থেকে পাচার হওয়া ১৫০ পিস শাল গজারি গাছ ভর্তি ট্রাক ও প্রাইভেটকারসহ ৭ জনকে আটক করেছে টাঙ্গাইল বন বিভাগের কর্মকর্তারা। আজ ভোরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের টাঙ্গাইল সদর উপজেলার করটিয়া ফরিয়া সিনেমা হলের সামনে থেকে তাদের আটক করা হয়। 
 
আটককৃতরা হলেন সখীপুর উপজেলার ঢনঢনিয়া গ্রামের মৃত আ. গফুর মিয়ার ছেলে হাজী রিপন (৫০), বেতুয়া গ্রামের মৃত ওয়াজেদ আলীর ছেলে আ. হামিদ (৫০), কচুয়া গ্রামের মৃত মফিজ খানের ছেলে জুলহাস খান (৪৫), কামাল হোসেনের ছেলে সিরাজ (২৮), আবদুল মালেকের ছেলে শফিকুল (২৫), বাসাইল উপজেলার ফুলকি গ্রামের রতন দাসের ছেলে দীপক দাস (৩০), নারায়নগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার এনায়েত নগর গ্রামের মৃত সুলতান খানের ছেলে অহিদুল ইসলাম (৩৮)।
 
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল হেড কোয়ার্টারস রেঞ্জ কর্মকর্তা নেছার উদ্দিন ভূইয়া বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের করটিয়া থেকে আটক করা হয় এবং একটি ট্রাক (নং-ঢাকা-মেট্রো-ট-২২-৩৩২৮) ও একটি প্রাইভেটকার (নং- ঢাকা-মেট্রো- গ-২৮-৪৬১৪) জব্দ করা হয়। সখীপুরের বহেড়াতৈল রেঞ্জের সদর বিট কর্মকর্তা এইচএম এরশাদ বলেন, শাল-গজারি কাঠ পাচারের সঙ্গে জড়িত ওই সাত ব্যক্তির নামে তিনি নিজে বাদী হয়ে বন আইনে মামলা করেছেন। 
 
স্থানীয় বনবিভাগ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে সখীপুরের বন খেকো নামে পরিচিত হাজী রিপন শাল-গজারি কাঠ চোরাই পথে পাচার করে আসছেন। তিনি সখীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের সদস্য গোলাম কিবরিয়া বাদলের শ্যালক। তিনি দলের প্রভাব খাটিয়ে সখীপুরের শাল-গজারি কাঠ কেটে রাতের আঁধারে পাচার করে ব্যবসা করে আসছেন। বনবিভাগের কর্মকর্তাদের জব্দকৃত ট্রাক ও প্রাইভেটকার হাজী রিপনের নিজের। এছাড়া আরও কয়েকটি ট্রাকের মালিক তিনি। এভাবে তিনি বন ধংস করে অনেক টাকার মালিক হয়েছেন।  
 
এ ঘটনার বিষয়ে টাঙ্গাইল বিভাগীয় বন কর্মকর্তা হারুন-অর-রশিদ খান বলেন, ৭ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করে ট্রাক ও প্রাইভেটকার জব্দ করে নিয়মিত মামলা রুজু করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এদিকে আদালত সূত্রে জানা গেছে, জামিন নামঞ্জুর করে আসামিদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। 
 
ইত্তেফাক/নূহু