মুলাদীতে যৌতুকের বলি হলেন গৃহবধূ

বরিশালের মুলাদীতে যৌতুকের জন্য শ্বশুর পরিবারের দেওয়া মানসিক নির্যাতন সইতে না পেরে এক গৃহবধু আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বুধবার বেলা ১টার দিকে উপজেলার বাটামারা ইউনিয়নের চরবাটামারা গ্রামের মোকছেদ হাওলাদারের কন্যা ও একই গ্রামের সুজন ভূঁইয়ার স্ত্রী ইসরাত জাহান ইতি পিতার বাড়িতে আত্মহত্যা করে। ইতির আত্মহত্যার কয়েক মিনিট আগেও তার মায়ের কাছে শ্বশুর পরিবারের যৌতুক দাবির বিষয়টি জানায়।
 
জানা গেছে, গত ৬ জানুয়ারি প্রেমের সম্পর্কের জের ধরে চরবাটামারা গ্রামের ফরিদ ভূঁইয়ার পুত্র সুজন ভূঁইয়া তার প্রেমিকা ইসরাত জাহান ইতিকে নিয়ে পালিয়ে বিয়ে করে। ওই ঘটনার কিছুদিন পরে সুজন ও ইতি এলাকায় ফিরে এলে ফরিদ ভূঁইয়া পুুত্রবধুকে মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে স্থানীয়দের চাপের মুখে সে ইতিকে মেনে নিলেও তাকে প্রকৃত পুত্রবধূর মর্যাদা দেয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
 
বিয়ে মেনে নেওয়ার কয়েকদিনের মধ্যে সুজনের পিতা ফরিদ ভূঁইয়া, বড়ভাই আতাউর রহমান ওরফে আলাউদ্দীন যৌতুকের জন্য ইতিকে চাপ প্রয়োগ করে। পালিয়ে বিয়ে করার বিষয়ে বার বার খারাপ মন্তব্য করতে থাকে। শ্বশুর পরিবারের যৌতুক দাবি এবং বিভিন্ন প্রকার মানসিক নির্যাতনে অতিষ্ট ইতি কয়েক দিন আগে পিতার বাড়িতে চলে আসে। কিন্তু মোবাইল ফোনে তার স্বামী ও স্বামীর বড়ভাই যৌতুকের জন্য চাপ প্রয়োগ করে।
 
বুধবার সকালে ইতি তার মায়ের কাছে শ্বশুর বাড়ির জন্য বিভিন্ন আসবাবপত্র এবং স্বর্ণালংকার দেওয়ার অনুরোধ করলে তার মা হালিমা বেগম মেয়ের সব আবদার পূরণ করার আশ্বাস দেন। দুপুরে ইতি মায়ের সঙ্গে পিঠা তৈরির এক ফাঁকে মোবাইল ফোনে বেশ কয়েকটি এসএমএস এলে সে ঘরের মধ্যে যায়। ১০-১৫ মিনিট পরে ইতির স্বামী পাশ্ববর্তী ঘরের মোবাইল ফোনে হালিমা বেগমের সঙ্গে কথা বলে জানায় যে, ইতি মোবাইল রিসিভ করছে না। ওই সময় ইতির মা ঘরের মধ্যে গিয়ে মেয়েকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে রশি কেটে নিচে নামায়।
 
সংবাদ পেয়ে মুলাদী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ইতির লাশ উদ্ধার করে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে মর্গে প্রেরণ করে। ইতির পরিবারের দাবি সুজন ও তার পরিবারের লোকজনের যৌতুকের দাবি এবং মানসিক যন্ত্রণা সইতে না পেরে ইতি আত্মহত্যা করেছে। বিষয়টি তদন্ত করলেই প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে। 
 
এ ব্যাপারে মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান জানান, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে তদন্ত সাপেক্ষে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
 
ইত্তেফাক/নূহু