চট্টগ্রামে দেশের অন্যতম বৃহৎ এলিভেটেড এক্সপ্রেস ওয়ে নির্মাণের পথে এগিয়ে যাচ্ছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। নগরীর লালখান বাজার থেকে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত সাড়ে ১৬ কিলোমিটার এক্সপ্রেস ওয়ে নির্মাণের কাজ শিগগির শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। মূল এক্সপ্রেস ওয়ে’র বাইরে র্যাম্প ও লুপসহ এটির দৈর্ঘ্য হবে প্রায় ২০ কিলোমিটার।
সিডিএ সূত্র জানায়, গত সোমবার উক্ত এক্সপ্রেস ওয়ে নির্মাণকাজের দরপত্রের ফিন্যান্সিয়াল অফার খোলা হয়েছে। ম্যাক্স-রেনকিন নামের একটি যৌথ প্রতিষ্ঠান সর্বনিম্ন দরদাতা হয়েছে। তাদের প্রদত্ত দর হলো ২ হাজার ৮৫৪ কোটি টাকা। এই এলিভেটেড এক্সপ্রেস ওয়ে নির্মাণের জন্য ১০টি প্রতিষ্ঠান দরপত্র জমা দেয়। এর মধ্যে ৬টি প্রতিষ্ঠান কারিগরিভাবে যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয়। কারিগরিপর্যায়ে বিবেচিত ৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৩টি দেশীয় প্রতিষ্ঠান চীনা ও অন্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে টেন্ডার দাখিল করে। কারণ দেশীয় প্রতিষ্ঠানসমূহের এককভাবে এ ধরনের বড় কাজ করার অভিজ্ঞতা নেই। চীনা অন্য ৩টি প্রতিষ্ঠান এককভাবে দরপত্র দাখিল করে। জানা যায়, ৩ হাজার ৩৯ কোটি টাকার দরপত্র জমা দিয়ে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন দরদাতা হয়েছে চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি। এছাড়া তৃতীয় সর্বনিম্ন দরদাতা হয়েছে চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি। তাদের প্রদত্ত দর হলো ৩ হাজার ১৫০ কোটি টাকা।
এই এক্সপ্রেস ওয়ে নির্মিত হলে নগরীর বহদ্দারহাট থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত পুরো সড়কের ওপর ফ্লাইওভার থাকবে। উক্ত ফ্লাইওভারের নিচের সড়কটিই নগরীর একমাত্র মূল সড়ক হিসেবে ব্যবহূত হয়। লালখান বাজার থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত বর্তমানে যাতায়াতের ক্ষেত্রে প্রধান প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে যানজট। বিশেষ করে এই সড়কটি চট্টগ্রাম বন্দর এবং চট্টগ্রাম ইপিজেড সংলগ্ন হওয়ায় ট্রাক, লরি, কাভার্ড ভ্যান, ট্রেলারসহ পণ্যবাহী ভারী যানবাহন চলাচল করে। এ সকল যানবাহনসহ পাবলিক ও প্রাইভেট যানবাহন মিলে এক অসহনীয় যানজটের সৃষ্টি হয় নিত্যদিন। এতে করে শহর থেকে বিমানবন্দরে পৌঁছাতে ২/৩ ঘণ্টাও লেগে যায়।
সিডিএ’র সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, এলিভেটেড এক্সপ্রেস ওয়ে মূলত বিমানবন্দরগামী যাত্রীদের নির্বিঘ্নে যাতায়াত নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এক্সপ্রেস ওয়ে নির্মিত হলে শহর থেকে বিমানবন্দরে পৌঁছাতে মাত্র ১০ মিনিট সময় ব্যয় হবে। তা ছাড়া, উক্ত এক্সপ্রেস ওয়ে হলে চট্টগ্রাম বন্দর, ইপিজেডসহ শিল্প প্রতিষ্ঠানসমূহের পণ্য পরিবহন আরো নির্বিঘ্ন হবে। কারণ বিমানবন্দর ও তত্সংলগ্ন এলাকার যানবাহনসমূহ এক্সপ্রেস ওয়ে দিয়ে চলাচল করবে।
এই প্রকল্প পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মো. মাহফুজুর রহমান জানান, এক্সপ্রেস ওয়ে নির্মাণের ক্ষেত্রে জনদুর্ভোগ সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখার জন্য আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অত্যাধুনিক গার্ডার লিফটিং টেকনোলজি ব্যবহার করে এটি নির্মাণ করা হবে।
ইত্তেফাক/আরকেজি