আসন্ন ডিসেম্বর মাসেই মোবাইলের চিপসেট প্রস্তুতকারী সংস্থা কোয়ালকম আনতে যাচ্ছে তাদের নতুন ফ্ল্যাগশিপ চিপসেট। ডিসেম্বরে হাওয়াই দ্বীপে শুরু হবে কোয়ালকমের স্ন্যাপড্রাগন প্রযুক্তি সংক্রান্ত তৃতীয় বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলন। সেখানেই এই চিপসেটের ঘোষণা দেয়া হতে পারে বলে আভাস মিলেছে।
উন্নত প্রযুক্তির চিপসেটের কারণেই আজ আমরা স্মার্টফোন পেয়েছি। হার্ডওয়্যারের ভাষায় ‘চিপসেট’ হল স্মার্টফোনের ‘মাদারবোর্ড’। স্মার্টফোনের কার্যকারিতার বেশির ভাগটাই নির্ভর করে এটির উপর। মোবাইলের যাবতীয় গণনা বা কম্পিউটিং সম্পর্কিত কাজ করে এই চিপসেট। এই স্মার্টফোনের যুগেও এখনো পর্যন্ত মোবাইল ফোন কথা বলা ও টেক্সট মেসেজ আদান প্রদান করার কাজে ব্যবহার করা হয়। কিন্তু কোয়ালকম যে প্রসেসর আনছে তার ব্যবহার শুরু হলে মোবাইল ফোনের কার্যক্ষমতা কম্পিউটারের ক্ষমতাকেও চ্যালেঞ্জ করে বসবে। হাতের মুঠোয় বয়ে নিয়ে বেড়ানো এই কথা বলার যন্ত্র হয়ে উঠবে কম্পিউটারের মতো শক্তিশালী। তখন কম্পিউটারের মতো ভারী ভারী সফটওয়্যার চালানো যাবে হাতের মুঠোয় থাকা ফোনটিতে। কি জানি হয়তো ল্যাপটপ বয়ে নিয়ে বেড়ানোর ঝামেলাও আর থাকবে না।প্রযুক্তি বিষয়ক ম্যাগাজিন পিসিপপ-এর প্রতিবেদন অনুসারে, অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সুবাদে নতুন এই চিপসেট ৩০ শতাংশ দ্রুত তথ্য প্রসেস করতে পারবে। এছাড়া মোবাইলে চার্জ থাকবে বর্তমানের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি সময় ধরে। থাকবে না মোবাইল গরম হয়ে যাওয়া বা ‘হ্যাং’ হয়ে যাবার মতো সমস্যা গুলোও। এই চিপসেট ৫জি প্রযুক্তির ইন্টারনেট ব্যবহারের সবচে উপযুক্ত মাধ্যম হবে।
জানা গেছে, কোয়ালকমের নতুন এই ফ্ল্যাগশিপ চিপসেট প্রথম ব্যবহার করার সুযোগ পাবে স্যামসাং। আগামী বছর স্যামসাংয়ের ‘গ্যালাক্সি’ সিরিজের দশম বার্ষিকীতে ‘গ্যালাক্সি এস৯’ লঞ্চ করবে স্যামসাং। সেই ফোনেই প্রথম ব্যবহার হতে পারে এই নতুন চিপসেট। আরও কি কি চমক আনছে এই চিপসেট কোম্পানি তার পুরোটাই জানা যাবে ৪ ডিসেম্বর। আপাতত সেদিকেই তাকিয়ে মোবাইল কোম্পানিসহ বাকি ইলেক্ট্রনিক পণ্য নির্মাতারাও।