ঘাট ও নাব্য সংকটের কারণে বেশ কিছুদিন ধরে দেশের গুরুত্বপূর্ণ দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে করে প্রতিদিনই নদী পার হতে না পেরে শতশত যানবাহন আটকা পড়ছে। দুর্ভোগে পড়ছে যাত্রী ও চালকরা। নাব্য সংকট কাটাতে বিআইডব্লিউটিএ ৭টি ড্রেজার দিয়ে পলি খনন কাজ শুরু করেছে।
দৌলতদিয়া ফেরিঘাট থেকে শুক্রবার বিকেল ৩টা নাগাদ যানবাহনের সারি গোয়ালন্দ ফায়ার সার্ভিস স্টেশন পর্যন্ত ৪ কি:মি: পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। এতে প্রায় ৫ শতাধিক যানবাহন আটকা পড়ে।
সরেজমিনে জানা যায়, গত কয়েকদিনে পদ্মা-যমুনা নদীতে অস্বাভাবিক গতিতে পানি কমছে। সেই সাথে তীব্র স্রোতে বয়ে আসা পলি ঘাট এলাকার ফেরি চলাচলের চ্যানেল ও বেসিনে জমে নাব্য সংকটের সৃষ্টি হচ্ছে। নাব্যতা সংকটের কারণে দৌলতদিয়ার ১নং, ২নং ঘাট এলাকায় একটি করে এবং ৫ ও ৬নং ঘাটের মাঝামাঝি ২টি ড্রেজারসহ মোট ৪টি ড্রেজার বসিয়ে বেসিনের গভীরতা বৃদ্ধি ও চ্যানেল তৈরির জন্য ড্রেজিং করা হচ্ছে। ড্রেজিং কাজের জন্য ফেরিগুলো স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারছে।
কয়েকজন ফেরি মাস্টার জানান, প্রতিনিয়ত স্রোতের সাথে পলি এসে জমছে চ্যানেল ও বেসিনে। স্বাভাবিকভাবে রোরো ফেরি চলাচলের জন্য ৯-১০ ফুট পানির গভীরতা দরকার। সেখানে দৌলতদিয়া এলাকায় সর্বোচ্চ সাড়ে ৮ ফুট এবং কোথাও কোথাও আরো কম পানি রয়েছে। এখানকার প্রায় আড়াইশ ফুট দৈর্ঘ্যরে চ্যানেলটি অত্যন্ত সরু ও অগভীর হয়ে গেছে। চ্যানেলে একটি ফেরি ঢুকলে বিপরীত দিক থেকে আর কোন ফেরি ঢুকতে পারে না।
বিআইডব্লিউটি’র ড্রেজিং বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী জাকির হোসেন জানান, এ বছর প্রাথমিকভাবে ২০ লক্ষ ঘনমিটার পলি অপসারণের লক্ষ্য নিয়ে ৭টি ড্রেজার দিয়ে তারা কাজ শুরু করেছেন। এর মধ্যে দৌলতদিয়া এলাকায় নাব্যতা সংকট বেশি এবং স্রোতে দ্রুত পলি আসতে থাকায় দিন-রাত ৪টি ড্রেজার দিয়ে কাজ করা হচ্ছে।
বিআইডব্লিউটিসি’র দৌলতদিয়া ঘাট শাখার ব্যবস্থাপক সফিকুল ইসলাম জানান, নৌরুটে পর্যাপ্ত (১৮টি) ফেরি আছে। রোরো ফেরি শাহ মখদুম ৩দিন ধরে বিকল হয়ে আছে। নাব্য সংকটে ফেরি চলাচল প্রচণ্ডভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে উভয় ঘাটে নদী পারের অপেক্ষায় শতশত যানবাহন আটকে পড়ছে।
ইত্তেফাক/বিএএফ