ঈদুল আযহার ৩ দিন আগে আলমডাঙ্গার জনকল্যাণ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণি পড়ুয়া তহুরা স্কুলে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়। তারপর আর তার খোঁজ মেলেনি। তহুরার পরিবার তাকে অনেক খুঁজে না পেয়ে অবশেষে ২ অক্টোবর থানায় মামলা দায়ের করে। মামলায় তহুরার কথিত প্রেমিক সবুজ ও তার বাবা তহিবুলকে আসামি করা হয়। তহুরা আলমডাঙ্গার পাইকপাড়া গ্রামের লুৎফর রহমানের মেয়ে।
লুৎফর রহমান জানান, ঈদের ৪দিন আগে তহুরা তার জন্ম নিবন্ধনের কার্ড নিয়ে সবুজকে বিয়ে করার জন্য বাড়ি ছেড়ে আলমডাঙ্গা শহরের যায়। কিন্তু সবুজ বিয়ে না করায় আমার মেয়ে এরশাদপুর মোড়ে কান্নাকাটি করছিল। এ সময় এরশাদপুর গ্রামের আমার বোন তহুরাকে তার বাড়িতে নিয়ে যায়। পরেরদিন আমি তহুরাকে বাড়িতে নিয়ে আসি।
তিনি আরো জানান, ওইদিন দুপুরে সবুজের চাচাতো বোন রোকসানা আমার বাড়িতে তহুরার কাছে আসে। এর পরদিন দুপুরে আমরা ঘুমিয়ে পড়ি। ঘুম থেকে ওঠে দেখি তহুরা নাই।আমাদের ধারণা সবুজ তহুরাকে নিয়ে গিয়ে কোথাও লুকিয়ে রেখেছে।
অপরদিকে, পার্শ¦বর্তী হাড়গাড়ী গ্রামের তহিবুল ইসলামের ছেলে তহুরার প্রেমিক সবুজের পরিবার দাবি করেছে, তহুরার সঙ্গে সবুজের প্রেম ছিল কি না তা তারা জানে না। এ ধরণের অভিযোগ তাদের কাছে কেউ কখনও করেনি। সবুজ এখন ইরাকের প্রবাস জীবন যাপন করছে।
তহিবুল জানান, যাদবপুর গ্রামের রাশেদ যোগাযোগ করে সবুজকে ইরাকে পাঠিয়ে দিয়েছেন। ১০ দিন আগে সবুজ ইরাকে পৌঁছায়।
তিনি আরো জানান, শুনেছি তহুরা নামের মেয়েটি ঈদের আগেই বাড়ি থেকে পালিয়ে গেছে। সবুজ তাকে নিয়ে গেলে সবুজকেও তো বাড়ি ছাড়তে হতো। বিদেশ যাওয়ার আগে পর্যন্ত সবুজ বাড়িতেই ছিল।
তিনি প্রশ্ন করেন সবুজ তাহলে কিভাবে তহুরাকে নিয়ে গেল? আর তহুরা নিখোঁজ হওয়ার এতদিন পর কেন তাদের নামে মামলা করা হচ্ছে?
এ ব্যাপারে থানার প্রধান কর্মকর্তা আবু জিহাদ খান ইত্তেফাককে জানান, তহুরার পিতা লুৎফর রহমান সবুজকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। আমরা মামলাটি রেকর্ডভুক্ত করেছি। সন্দেহের সবদিক বিবেচনায় রেখে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে। পুলিশ খুব দ্রুত এই রহস্য উম্মোচন করতে সক্ষম হবে।
এদিকে, পাইকপাড়া গ্রামের কেউ কেউ সন্দেহ প্রকাশ করে বলেছেন, কোন পক্ষ মেয়েটিকে নিজেদের হেফাজতে রেখে কুট রাজনীতি করছে না তো? আবার কেউ কেউ বলেছেন, সবুজ এত দ্রুত কেন ইরাকে পাড়ি জমালো? সন্দেহের দোলাচলে ভুগে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন তহুরা বেঁচে আছে তো? থাকলে, তহুরা এখন কোথায়?
ইত্তেফাক/নূহু