১১টি ফসলে ৮০ কোটি টাকা প্রণোদনা পাবে কৃষক: মতিয়া চৌধুরী

সরকার ১১টি কৃষি পণ্যে ৮০ কোটি টাকার প্রণোদনা ঘোষণা করেছে। এ সব টাকা সরাসরি কৃষকের ব্যাংক একাউন্টে অথবা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে কৃষকের হাতে পৌঁছে যাবে। কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী সাংবাদিকদের কাছে এ তথ্য প্রকাশ করেন। এ টাকা কৃষি মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব বাজেট থেকে সংকুলান করা হবে। অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হবে না। 
 
রবিবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে কৃষি মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. নাসিরুজ্জামান ছাড়াও মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
 
যেসব পণ্যে প্রণোদনা দেয়া হবে: গম, ভুট্টা ও সরিষা, চীনাবাদাম, ফেলন, খেসারি, বিটি বেগুন, বোরো, শীতকালীন মুগ ও তিল। ৬ লাখ ৯০ হাজার ৯৭০ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক এই প্রণোদনা পাবে। প্রণোদনা বিতরণে সাংবাদিকদের সহায়তা কামনা করে মন্ত্রী বলেন, এ ক্ষেত্রে কোন অনিয়ম হলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রতিটি কৃষক পরিবার সর্বোচ্চ এক বিঘা জমির জন্য বিনামূল্যে বীজ ও সারের বিপরীতে নগদ অর্থ পাবে। 
 
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ৬৫ হাজার ৭০০ জন কৃষক গম বীজ, দুই লাখ ২১ হাজার ৫০০ জন ভুট্টা বীজ, দুই লাখ ১০ হাজার ২০০ জন সরিষা, ১০ হাজার ১০০ জন চিনাবাদাম, ১৮ হাজার জন গ্রীষ্মকালীন তিল, ৪৮ হাজার ৪০০ জন গ্রীষ্মকালীন মুগ, ২৪ হাজার ৩০০ জন শীতকালীন মুগ, ১৩ হাজার ৬০০ জন খেসারি, পাঁচ হাজার ৪০০ জন ফেলন, দুই হাজার ৭০ জন বিটি বেগুন এবং ৭১ হাজার ৭০০ জন কৃষক বোরো বীজ পাবেন। এক বিঘা জমিতে চাষাবাদের জন্য প্রত্যেক কৃষক ২০ কেজি গম, পাঁচ কেজি ধান, দুই কেজি ভুট্টা, এক কেজি সরিষা, ১০ কেজি চীনাবাদাম, এক কেজি গ্রীষ্মকালীন তিল, পাঁচ কেজি গ্রীষ্মকালীন মুগ, আট কেজি খেসারি,  সাত কেজি ফেলন এবং ২০ গ্রাম বিটি বেগুনের বীজ পাবেন।
 
ধান, গম, ভুট্টা, গ্রীষ্মকালীন তিল, সরিষা ও বিটি বেগুন চাষে প্রত্যেক কৃষক ২০ কেজি ডিএপি ও ১০ কেজি করে এমওপি সার পাবেন। আর চীনাবাদাম, গ্রীষ্মকালীন মুগ, শীতকালীন মুগ, খেসারি, মাষকলাই ও ফেলন চাষে প্রত্যেক কৃষককে ১০ কেজি করে ডিএপি ও পাঁচ কেজি করে এমওপি সার দেবে সরকার।
 
এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আবহাওয়া অনুকূল পণ্য উৎপাদনে সরকার সক্রিয় আছে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশের আবহাওয়া উপযোগী গমবীজ উদ্ভাবনে বিদেশে অনুরোধ করা হয়েছে। দেশে উন্নত জাতের তাপানুকূল বিভিন্ন কৃষি পণ্যের বীজ উৎপাদন হচ্ছে। ইতোমধ্যে ভুট্টার উৎপাদন অনেক বেড়েছে। চাল এখন মাছের খাওয়ার জন্যও ব্যবহৃত হচ্ছে। 
 
যে উদ্দেশ্যে এই প্রণোদনা: গম, ভুট্টাসহ এই ১১টি ফসল আবাদে কৃষককে উৎসাহ দেয়া, ফসলের আবাদ এলাকা বৃদ্ধি, ফলন বৃদ্ধি ও প্রাকৃতিক কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া। 
 
ইত্তেফাক/এমআই