গত এক দশকে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং সরকারের অর্জন সমূহকে তুলে ধরার প্রয়াসে দেশে-বিদেশে চলমান উন্নয়ন মেলার সঙ্গে মিল রেখে বাংলাদেশ হাই কমিশন, সিঙ্গাপুরের উদ্যোগে রবিবার ‘বাংলাদেশ উন্নয়ন মেলার’ আয়োজন করা হয়।
মেলার শুরুতে ‘উন্নয়নের অভিযাত্রায় অদম্য বাংলাদেশ’ বিষয়ক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সিঙ্গাপুরে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনার মোস্তাফিজুর রহমান সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। হাই কমিশনার বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপনপূর্বক গত এক দশকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে বিভিন্ন উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশ যে অর্ভতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে, সেগুলোর প্রতি আলোকপাত করেন।
তিনি তার বক্তব্যে বর্তমান সরকার গৃহীত বিভিন্ন জনকল্যাণমুখী প্রকল্প, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় সুবিধা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে বিভিন্ন কল্যাণমূলক প্রকল্প গ্রহণ, বিনিয়োগ বান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতকরণ সহ আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিতে সরকারের প্রচেষ্টা ও সাফল্যের চিত্র তুলে ধরেন। হাই কমিশনার সরকারের উন্নয়ন অভিলক্ষ্য ২০২১ ও ২০৪১ বাস্তবায়নে সবাইকে বিশেষ করে সিঙ্গাপুর প্রবাসী বাংলাদেশীদের অবদান রাখার আহ্বান জানান এবং বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলতে তাদের সহযোগিতা কামনা করেন। অতঃপর বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এর উপর একটি প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করা হয়।
অনুষ্ঠানের তৃতীয় পর্বে ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যেটির পরিকল্পনা, পরিচালনা ও পরিবেশনায় ছিলেন প্রবাসী বাংলাদেশী শ্রমিকেরা। বাংলাদেশি শ্রমিকদের দ্বারা গঠিত শিল্পীগোষ্ঠী অনুষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তি, গান ও নৃত্য পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠানে আগত দর্শক-শ্রোতারা মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটি উপভোগ করেন এবং অংশগ্রহণকারী স্বশিক্ষিত শিল্পীদের ভূয়সী প্রশংসা করেন। প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকদের সংগঠন ‘সিঙ্গাপুর বাংলা সাহিত্য পরিষদ’ মেলার একটি স্টলে বাংলাদেশি খ্যাতনামা কবি-লেখকদের বই প্রদর্শন করেন।
মেলা উপলক্ষে হাই কমিশন প্রাঙ্গণ বিভিন্ন ধরনের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের পোস্টার দ্বারা সজ্জিত করা হয়। উপরন্তু, সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের বিবরণী সম্বলিত লিফলেট অতিথি-দর্শনার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। দূতাবাস প্রাঙ্গণে স্থাপিত বিভিন্ন স্টলে বাংলাদেশি হস্তশিল্প, কারুপণ্য, রপ্তানী পণ্য, দেশীয় খাবার, বাংলা বই, পর্যটন সংক্রান্ত পোস্টার প্রদর্শন করা হয়।
উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি এবং বিদেশি অতিথির উপস্থিতিতে মেলা প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে ওঠে। উপস্থিত সকলেই হাই কমিশনের এ ধরণের ব্যতিক্রমী উদ্যোগের প্রশংসা করেন। অনুষ্ঠান শেষে অতিথি-দর্শনার্থীদেরকে বাংলাদেশি খাবার সহযোগে আপ্যায়ন করা হয়।
ইত্তেফাক/ইউবি