দেশব্যাপী বিএনপিসহ বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত ‘গায়েবি’ মামলা তদন্তের নির্দেশনা চেয়ে দায়েরকৃত রিট আবেদনের ওপর দ্বিধাবিভক্ত আদেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারক আবেদনের ওপর রুল জারি করলেও কনিষ্ঠ বিচারক রিট আবেদনটি সরাসরি খারিজ করে দেন।
মঙ্গলবার বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে এ দ্বিধাবিভক্ত আদেশ হয়।
আইনজীবীরা জানিয়েছেন, নিয়মানুযায়ী মামলার নথি এখন প্রধান বিচারপতির কাছে যাবে। প্রধান বিচারপতি বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য হাইকোর্টের তৃতীয় বেঞ্চে পাঠাবেন।
গত দু’দিন ধরে হাইকোর্টে এ রিট আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী রুল জারি করেন। রুলে কথিত ‘কাল্পনিক’ ও ‘গায়েবি’ মামলা কেন আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত ঘোষণা এবং মামলা দায়েরকারী পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হবে না তা জানতে চাওয়া হয়। এছাড়া এ ধরনের মামলা অনুসন্ধানে পদক্ষেপ নেয়া ও তদন্তকাজ তদারকি করে দুই মাসের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে আইজি ও ডিএমপি কমিশনারকে নির্দেশ দেয়া হয়।
রিট আবেদনটি সরাসরি খারিজ করে দিয়ে কনিষ্ঠ বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল বলেন, রিট আবেদনকারীদের উত্থাপিত অভিযোগ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আবেদনকারীরা বলেছেন জনস্বার্থে এ রিট করা হয়েছে। যদিও আবেদনকারীরা নিজেরাই কথিত ‘গায়েবি’ মামলার আসামি। আইন অনুযায়ী এসব ফৌজদারি মামলায় বিচারিক আদালতে তাদের প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ আছে। ফলে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তাদের রিট আবদেন করার এখতিয়ার নেই। এ বিষয়ে আপিল বিভাগের সিদ্ধান্ত রয়েছে। ওই সিদ্ধান্ত মানা না হলে সংবিধান, আদালত থাকবে না।
এর আগে শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, ফৌজদারি মামলা হলে ফৌজদারি আইনে প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। রাজনৈতিক কর্মসূচিতে রাজনীতিবিদরাই অংশ নেন। সেখানে গাড়ি ভাংচুর হলে তার সঙ্গে রাজনীতিবিদরাই জড়িত। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা আবদুস সালাম পিন্টু ও তার ভাই মাওলানা তাজউদ্দিন জড়িত। সুতরাং এটা বলার সুযোগ নেই যে রাজনীতিবিদরা অপরাধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকেন না।
জবাবে খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, ৪ হাজার গায়েবি মামলায় আসামি করা হয়েছে আট লাখ। এদের প্রত্যেকেই কি আদালতে আসবেন? গায়েবি মামলায় হাজার হাজার মানুষ ভিড় করছেন জামিনের জন্য।
গত ২২ সেপ্টেম্বর আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন, নিতাই রায় চৌধুরী ও সানাউল্লাহ মিয়া হাইকোর্টে এই রিট আবেদন দায়ের করেন।
ইত্তেফাক/এমআই