বরিশালের আগৈলঝাড়ায় কানন চৌধুরী নামে এক বিধবাকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের পর মাথার চুল কেটে ও পায়ে লোহার শিকল দিয়ে তালাবদ্ধ করে রাখার মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে নির্যাতনকারী উত্তম চৌধুরীকে (৪৫) তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
লিখিত অভিযোগের বরাত দিয়ে আগৈলঝাড়া থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আফজাল হোসেন জানান, গত দেড়যুগ আগে উপজেলার রত্নপুর ইউনিয়নের রত্নপুর গ্রামের কানন চৌধুরীর স্বামী মারা যায়। স্বামীর মৃত্যুর পর বৃদ্ধা শাশুড়ি ও ছেলে মেয়েদের নিয়ে দিন মজুরের কাজ করে কোন রকমে স্বামীর ভিটায় বসবাস করে আসছিল কানন। দেড় বছর আগে তার বুদ্ধি প্রতিবন্ধী মেয়ে বিথী রানীকে মাদারীপুর সদর থানার পূর্ব রাজদী গ্রামের ননী গোপাল দাসের ছেলে মিন্টু দাসের সাথে বিয়ে দেন তিনি।
মেয়ের স্বাভাবিক জ্ঞান বুদ্ধি না থাকায় মেয়ে ও মেয়ে জামাতা ঝন্টুকে তার নিজের বাড়িতে রেখে সেখানে তার নিজের সম্পত্তিতে বসত ঘর নির্মাণ করতে কিছু গাছ কাটেন বিধবা কানন। মেয়ে জামাতাকে ঘর জামাই রাখতে ও গাছ কাটতে বাধা দেয় একই বাড়ির লোকজন। তারা বিথী ও বিথীর জামাতা ঝন্টুকে ওই বাড়িতে থাকিতে দেবে না বলে বিভিন্ন প্রকার হুমকি ধামকী দিয়ে আসছিল।
IMG0
বাড়ির লোকজনের বিরোধীতার পরেও মেয়ে বিথী ও মেয়ে জামাতা ঝন্টুকে বাড়িতে রাখায় ওই বাড়ির লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে বিধবার বিরুদ্ধে অপমানজনক মিথ্যা অপবাদ দিয়ে গত ৩০ অক্টোবর খুব সকালে বিধবার বসত ঘরে প্রবেশ করে তার ওপর মধ্যযুগীয় হামলা চালায়। মেয়ে জামাতা মিন্টু তার শাশুড়িকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাকেও এলোপাথাড়ি মারধর করে জখম করে তারা। এ সময় বিধবার পায়ে লোহার শিকল দিয়ে খুঁটির সাথে বেধে রাখে হামলাকারীরা।
ওই ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে ভুক্তভোগী বিধবা কানন চৌধুরী বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন, নং-৫, (৯.১০.১৮)। ওই মামলায় নির্যাতনকারী একই বাড়ির মৃত রাজ্যেশ্বর চৌধুরীর ছেলে উত্তম চৌধুরীকে (৪৫) মঙ্গলবার রাতে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বুধবার সকালে গ্রেপ্তারকৃতকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
ইত্তেফাক/বিএএফ