মেডিকেলে চান্স পেয়েও ভর্তি হতে পারছে না মনোজ

বাবা দরিদ্র মোটরসাইকেল মেরামতকারী। মা দিনমজুর। এবারের মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষায় অসামান্য সাফল্য লাভ করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে মনোজ রায়।
 
চরম দারিদ্র্য কোনভাবেই থামাতে পারেনি তার অদম্য ইচ্ছা ও তার মেধাশক্তিকে। তবে মেডিকেলে কৃতিত্বের সঙ্গে ভর্তির সুযোগ পেয়েও এখন তার স্বপ্ন দারিদ্র্যের অভিশাপে দুঃস্বপ্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
 
দিনাজপুরের ফুলবাড়ি উপজেলার ২নং আলাদিপুর ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রাম রাঙামাটি। এই গ্রামেই বাস মনোজ রায়ের। ছেলের এসএসসি ও এইচএসসি পাস করাতে গিয়ে বিভিন্ন এনজিওসহ স্থানীয়ভাবে ব্যক্তি বিশেষের কাছে দেনা করে এখন সেই দেনায় জর্জরিত মনোজের পরিবার। সংসারের আহার সংকুলান না হওয়ায় মা প্রতিমা রাণীকে যেতে হয় কৃষি শ্রমিক হিসেবে দিনমজুরের কাজ করতে। দারিদ্র্যের এই চরম অভিশাপ কাটিয়ে সমাজে কিছু দিতে মনোজ রায় স্বপ্ন দেখেন বড় হয়ে চিকিৎসক হওয়ার।
 
চিরিরবন্দরের কালীগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১৬ সালে এসএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ-৫ এবং সৈয়দপুর সরকারি কারিগরি মহাবিদ্যালয় থেকে ২০১৮সালে এইচএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়ে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয় মনোজ।
 
মনোজের বাবা মিন্টু রায় বলেন, জমি বলতে বাড়ির ভিটেমাটি ছাড়া কিছু নেই তার। মোটরসাইকেল মেরামত তার আয়ের একমাত্র উৎস। ছোটবেলা থেকেই ছেলের কোনো আবদার না থাকলেও তার একটিই অবদার ছিল বড় হয়ে সে ডাক্তার হবে। ডাক্তারি পড়ার অর্থ কীভাবে যোগাড় করবেন এই দুশ্চিন্তায় পড়েছেন বাবা-মা। 
 
মনোজের মা প্রতীমা রাণী বলেন, দারিদ্র্য-পীড়িত সংসারে স্বামীর রোজগার দিয়ে নিয়মিত উনুন (চুলা) জ্বালাতে গিয়েও মাঝে মাঝে হোঁচট খেতে হয়। ছেলে মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পাওয়ার পর তিনিও তার ভর্তি ও লেখাপড়ার খরচ যোগান নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। চলতি মাসের ১৭তারিখে ভর্তির দিন রয়েছে। এতে প্রায় ১৭হাজার টাকার প্রয়োজন কিন্তু বাড়িতে এক হাজার টাকাও নেই। ছেলে ভর্তি নিয়ে ইতোমধ্যেই বিভিন্ন এনজিওসহ ব্যক্তি বিশেষের কাছে ঋণের জন্য ধর্ণা দিচ্ছেন।
 
মনোজ রায় বলেন, মেধা তালিকায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পাওয়ার পর থেকে এলাকার মানুষজন তার বাড়িতে ভিড় করছে। কিন্তু পরিবারের যে অবস্থা! শেষ পর্যন্ত মেডিকেলে ভর্তিসহ লেখাপড়া চালিয়ে যেতে পারবে কী না তা নিয়ে সংশয়ে পড়েছি।
 
ইত্তেফাক/নূহু