লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বাউরা পাবলিক দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র মমিনুর ইসলামকে পিটিয়ে মাথা ফাটিয়ে দিয়েছেন ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক আজিজার রহমান। শনিবার (১৩ অক্টোবর) সকালে এ ঘটনা ঘটে।
আহত স্কুলছাত্র পাটগ্রাম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। তার পিতা ভ্যানচালক রেজাউল ইসলাম উপজেলার বাউরা ইউনিয়নের নবীনগর গ্রামের বাসিন্দা। আহত ছাত্র জানায়, ‘স্কুল ড্রেসের শার্টের সঙ্গে অন্য প্যান্ট পরে আসায় প্রধান শিক্ষক আজিজার রহমান স্যার ডেকে আমার কাছে কেন এভাবে এসেছি জানতে চান। আমি বলি, প্যান্ট অপরিষ্কার। ধুয়ে শুকাতে দিয়েছি। তখন তিনি উত্তেজিত হয়ে আমাকে চড়, থাপ্পরসহ বেধড়ক মারতে থাকেন। এক পর্যায়ে দুই হাত দিয়ে আমার মাথা ধরে স্কুলের ওয়ালে ধাক্কা দিলে আমার চোখের ওপরে কপাল ফেটে রক্ত পড়তে থাকে। আমি এ সময় মাটিতে পড়ে যাই।’
আহত ছাত্রের ফুপা শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আহত ছাত্রকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গরীব পরিবার ওষুধ কেনারও টাকা নেই। আমি ৭৪০ টাকার ওষুধ কিনে দিয়েছি। আমরা এ ঘটনার বিচার চাই।’
বাউরা পাবলিক দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজিজার রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।
পাটগ্রাম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের ডাক্তার আব্দুস সালাম বলেন, আহত শিক্ষার্থী হাসপাতালের ২৪ নং বেডে চিকিৎসাধীন। তার মাথায় সেলাই দেওয়া হয়েছে। চোখেও ব্যাথা পেয়েছে। রংপুর হাসপাতালে নিতে বলা হয়েছে। তার পরিবার নিতে পারেনি।
মাধ্যমিক অধিদপ্তর পাটগ্রামের একাডেমিক সুপার ভাইজার বলেন, আমি হাসপাতালে গিয়ে শিক্ষার্থীকে দেখে এসেছি। প্রধান শিক্ষক কাজটি ঠিক করেন নি।
পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল করিম বলেন, আমি আহত শিক্ষার্থীর খোঁজ নিয়েছি। তার পরিবারের সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগ না দিলেও নিষ্পত্তি করা হবে।
ইত্তেফাক/নূহু