নগরবাসী শরৎ উত্সবে মেতেছে। অথচ প্রকৃতিতে শরতের দেখা নেই। শরত মানেই সাদা মেঘেরে ভেলা, কাশের বনে হাওয়ার দোলা। আশ্বিন যাই যাই করছে কিন্তু প্রকৃতিতে এখনো বর্ষার রূপ। আকাশ কালো করে থম ধরা প্রকৃতি। হুট করেই ঝুম বৃষ্টি এসে ভাসিয়ে দিচ্ছে চারপাশ। প্রকৃতি জুড়ে শরতের রূপ খুব একটা না ফুটলেও শরত্ বন্দনায় থেমে নেই নগরবাসী। গতকাল শনিবার সকালে সত্যেন সেন শিল্পী গোষ্ঠীর আয়োজনে শরৎ বন্দনায় যোগ দেন প্রকৃতিপ্রেমীরা। অনুষ্ঠান হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বকুলতলায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান উৎসবের উদ্বোধন করেন। সভাপতিত্ব করেন ড. হায়াত মামুদ। এ সময় শরৎ উত্সবের তাৎপর্য নিয়ে কথা বলেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ, সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠীর সহ সভাপতি নিগার চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মানজার চৌধুরী সুইট।
এর আগে শিল্পী নুরুল হকের সন্তুরে রাগ পরিবেশনায় শুরু হয় সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠীর শরত্ উত্সবের আনুষ্ঠানিকতা। পরে একক সংগীত পর্বে সংগীত পরিবেশন করেন মহাদেব ঘোষ, অনিমা রায়, সুমনা মজুমদার, সঞ্জয় কবিরাজ, বিমান চন্দ্র বিশ্বাস। একক আবৃত্তি পর্বে নায়লা তারান্নুম চৌধুরী কাকলী শোনান কাজী নজরুল ইসলামের ‘বাংলাদেশ নম নম নম’। সালমা মুন্নির পরিচালনায় দলীয় নৃত্য পরিবেশন করে নৃত্যাক্ষ, অনিক বসুর পরিচালনায় নৃত্য পরিবেশন করে স্পন্দন, নাঈম হাসান সুজার পরিচালনায় নৃত্যজন, ফারহানা চৌধুরী বেবীর পরিচালনায় বাফা দলীয় নৃত্য পরিবেশনা করে।
দলীয় সংগীত পরিবেশন করে সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠী, ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠী ও বহ্নিশিখা। পশ্চিমবঙ্গের হালিশহর থেকে আগত ‘ছন্দে ছন্দে’ নৃত্য দলের বিশেষ পরিবেশনাও ছিল এই শরত্ উৎসবে।
এদিন বিকালের পর্বে সংগীত পরিবেশন করে স্বভূমি লেখক শিল্পী কেন্দ্র, গীত শতদল, সমন্বয়, পঞ্চভাস্বর, উজান। দলীয় আবৃত্তি পরিবেশন করে কণ্ঠশীলন, ঢাকা স্বরকল্পন ও কল্পরেখা। একক আবৃত্তি পরিবেশন করেন রেজীনা ওয়ালী লীনা, ফয়জুল আলম পাপ্পু, মাসুদুজ্জামান, আহসান উল্লাহ তমাল, আজিজুল বাশার মাসুম ও তামান্না সারোয়ার নীপা। দলীয় নৃত্য পরিবেশন করে নটরাজ, স্বপ্ন বিকাশ কলা কেন্দ্র, ঘাসফুল নদী শিল্পী গোষ্ঠী। একক সংগীত পরিবেশন করে মীরা মণ্ডল, ফেরদৌসী কাকলী, রত্না সরকার, নবনীতা জাইদ চৌধুরী অনন্যা, আবিদা রহমান সেতু, শিমুল সাহা, সৌরভ, মাহজাবিন রহমান শাওলী, এস এম মেজবাহ, আঁখি বৈদ্য ও আরিফ রহমান।
ইত্তেফাক/মোস্তাফিজ