এমপিও সিট না আসায় বিপাকে শিক্ষক-কর্মচারীরা

এমপিও সিট না আসায় অর্থাভাবে পূজা করতে পারছেন না রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার বেসরকারি ৮৯ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হিন্দু ধর্মাবলম্বী শিক্ষক কর্মচারীরা। এ নিয়ে তাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা গেছে।
 
জানা যায়, সরকার স্বাভাবিক নিয়মে প্রতি মাসে এমপিও সিটের মাধ্যমে বেতন-ভাতা ছাড় দেয়। এ জন্য প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামে এমপিও সিট জমা হয় সোনালী ব্যাংকে। স্বাভাবিক নিয়মে প্রতিটি প্রতিষ্ঠান হতে দায়িত্বশীল ব্যক্তি ব্যাংকে গিয়ে শিক্ষক-কর্মচারীদের নামের তালিকা জমা দিয়ে বেতন ভাতা উত্তোলন করেন।
 
চলতি মাসের শিক্ষক কর্মচারীদের (সেপ্টেম্বর) বেতন ভাতা উত্তোলনের শেষ তারিখ নির্ধারিত ছিল ৯ অক্টোবর। কিন্তু ৫ দিন অতিবাহিত হয়ে গেলেও বদরগঞ্জ উপজেলার বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা বেতন ভাতা উত্তোলন করতে পারেননি। উপজেলার প্রায় প্রতিটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হিন্দুধর্মাবলম্বী শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন। পূজার আগে বেতন না হওয়ায় তারা পড়েছেন চরম বিপাকে। 
 
সরেজমিনে রবিবার সকালে সোনালী ব্যাংকে গিয়ে দেখা যায়, হিন্দু ধমার্বলম্বি শিক্ষক-কর্মচারীদের আহাজারির চিত্র। 
 
এ দিকে বদরগঞ্জ সোনালী ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামে কোন এমপিও সিট এখন পর্যন্ত আসেনি। তবে জানা যায়, বদরগঞ্জের এমপিও সিট ভুলক্রমে শরিয়তপুরের ভেদরগঞ্জে চলে গিয়েছে।  
 
বেতন তুলতে আসা বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের কর্মচারী নগেন মহন্ত জানান, প্রতিবছর পূজার আগে বেতন হয়। এবার নাকি বদরগঞ্জের স্থলে ভেদরগঞ্জ হওয়ায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বেতন দিচ্ছে না। এখন আমরা কিভাবে পূজা করবো। 
 
তিনি আরও জানান, আমার স্ত্রী বদরগঞ্জ মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে চাকরি করেন। ভেবেছিলাম দু-জনের বেতন বোনাস তুলে পূজার যাবতীয় খরচ করবো। এখন তো দেখছি পূজাই হবে না। 
 
কথা হয় খিয়ারপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী সন্তোষ রায়ের সঙ্গে। তিনি জানান, পূজার আগে বেতন বোনাস তুলতে না পেরে কিভাবে বাড়ির সকলের নতুন জামা কাপড়সহ পূজার যাবতীয় খরচ করবো, এ নিয়ে চিন্তায় আছি।
 
উপজেলার খিয়ারপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেন জানান, হিন্দুধমার্বলম্বীদের সবচাইতে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। আর তাতেই যদি তারা বেতন বোনাস না পায় এটা অমানবিক। 
 
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ বিমলেন্দু সরকার জানান, পূজার আগে বেতন বোনাস না হওয়ার বিষয়টি অমানবিক। তবে আমি ব্যাংক ম্যানেজারকে অনুরোধ করেছি প্রযুক্তির যুগে দ্রুততম সময়ে বিষয়টির সমাধান করার জন্য। 
 
বদরগঞ্জ সোনালি ব্যাংক ম্যানেজার সামিউল হাসান জানান, ব্যাংকে গোটা উপজেলার বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিও সিট এখনও আসেনি। তবে আমি খোঁজ নিয়ে জেনেছি, বদরগঞ্জের এমপিও সিট নাকি শরিয়তপুরের ভেদরগঞ্জে চলে গিয়েছে। আমি চেষ্টা করছি যাতে দ্রুততম সময়ে বিষয়টির সুরাহা করার।  
 
ইত্তেফাক/জেডএইচ