গত রবিবার শেষ হয়েছে জার্মানির ৭০তম ফ্রাঙ্কফুর্ট আন্তর্জাতিক বইমেলা। বিশ্বের সর্ব বৃহৎ এ বইমেলার শেষ দিনে জমজমাট হয়ে উঠে পুরো প্রাঙ্গন। সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় এদিনে প্রচুর জন সমাগম ঘটে।
মেলায় বাংলাদেশসহ শতাধিক দেশ, সাড়ে সাত হাজার প্রকাশক এবং চার হাজার পরিবেশক অংশ নেন। মেলায় বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতি, বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি এবং মিকন গ্রুপের পক্ষে অংশ নেয়- সময় প্রকাশন, পাঞ্জেরী বাংলাপ্রকাশ, কথা প্রকাশ, ইউপিএল, পলল প্রকাশনী এবং নবেল পাবলিশিং হাউস। জার্মানিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত ইমতিয়াজ আহমেদ বাংলাদেশ স্টল উদ্বোধন করেন।
মেলায় সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মশিউর রহমান নেতৃত্বে বাংলা একাডেমির সচিব আনোয়ার হোসেন, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রে পরিচালক রেজাউল করিম, ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. মুহাম্মদ সামাদ এবং কাজল বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধি দল যোগ দেয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত ভিসার জটিলতার কারণে তাদের যোগদান সম্ভব হয়নি।
এ ব্যাপারে দলনেতা মশিউর রহমান ইত্তেফাককে টেলিফোনে বলেন, বিষয়টি যেমন বিব্রতকর, তেমনি দুঃখজনক বটে। নানান জটিলতা এবং সমস্যার পর ঢাকাস্থ দূতাবাস আমাদের ভিসা দিয়ে চেয়েছিল ১৪ অক্টোবর অর্থাৎ মেলার শেষ দিনে। আমরা অযথা সরকারি অর্থ অপচয় না করে শেষ পর্যন্ত ভিসা গ্রহণ করিনি।
এবারের ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলার থিম কান্ট্রি জর্জিয়া। পরবর্তী দুই বছর থিম কান্ট্রি যথাক্রমে নরওয়ে এবং কানাডা। বাংলাদেশ থিম কান্ট্রি হবার সম্ভাবনা কতখানি? এ প্রসঙ্গে ফরিদ আহমদ এই প্রতিবেদককে জানান, ব্যাপারটা এতো সহজ নয়। উদ্যোগ নিলে, চেষ্টা করলে করা তো যাবেই। তবে তা ব্যয় বহুল। কোটি কোটি টাকার বাজেট এবং অনেক আগে থেকেই ব্যাপক প্রস্তুতির প্রয়োজন। তিনি আরো জানান, মেলার চরিত্র মোতাবেক বাংলাদেশের সাহিত্যকে কিছুটা হলেও আমরা তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছি। বিভিন্ন দেশের প্রকাশক এবং পাঠকরা বাংলাদেশের বইয়ের প্রতি গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
এদিকে মেলায় পরে হামিদুল হকের উদ্যোগে ১৪ অক্টোবর শুরু হবে দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু বইমেলা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও শুদ্ধস্বর পত্রিকার সম্পাদক হাবিল বাবুল আয়োজন করে মেলা উত্তর এক সেমিনার।
ইত্তেফাক/ইউবি