কানাডার ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির একটি ভবনের নাম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত অমিত চাকমার নামানুসারে অমিত চাকমা ইঞ্জিনিয়ার স্কুল বিল্ডিং অর্থাৎ ‘অমিত চাকমা প্রকৌশল ভবন’ করা হয়েছে। এই বিরল সন্মান একজন বাংলাদেশির জন্য অত্যন্ত গৌরবের। উল্লেখ্য, অমিত চাকমার উক্ত ভার্সিটির জনপ্রিয় প্রেসিডেন্ট এবং একই সঙ্গে ভাইস চ্যান্সেলর।
এদিকে ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি এক ঘোষণায় জানিয়েছে, বিশ্ব আঙ্গিনায় ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটিকে শীর্ষস্থানে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে চাকমার নির্দেশনা এবং নেতৃত্বের স্বীকৃতি স্বরূপ তার নামে এই বিল্ডিং-এর নামকরণ করা হয়েছে। কারণ, তার জন্যই ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি ২০০৯ সালে প্রকৌশলীর তালিকা ১৫০০ থেকে বেড়ে তা ২৭০০ শিক্ষার্থী স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামে বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই সঙ্গে আন্তর্জাতিক কৌশল উন্নয়ন ও বাস্তবায়নে তার সুযোগ্য নেতৃত্ব এবং কঠোর পরিশ্রমের ফলশ্রুতিতে বিশ্বের সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি ও মর্যাদা লাভ করেছে।
নিজের নামে ভবনের নামকরণের প্রতিক্রিয়ায় অমিত চাকমা ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমি জানতাম না যে এরকম একটি বিস্ময়কর বিষয় আমার জন্য অপেক্ষা করছিল। কারণ, এ ব্যাপারে আমাকে আগে থেকে কিছুই জানানো হয়নি। গত ১২ অক্টোবর ভবনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে গেলে আমাকে চমকে দিয়ে এই ঘোষণা দেয়া হয়।’
তিনি কিছুটা আবেগ আপ্লুত হয়ে বলেন, ‘ইউনিভার্সিটির চ্যান্সেলর জ্যাক কুইন এবং তার স্ত্রী শ্যারন কুইন ৫ মিলিয়ন ডলার খরচ অনুদান দিয়ে এই চমত্কার বিল্ডিং স্থাপন করেন এবং তা আমাকে উৎসর্গ করে আমাকে গর্বিত করেছেন। এই গর্ব আমার একার নয়; এই গর্ব সকল অভিবাসীদের, বাঙালি হিসেবে এই গৌরব বাংলাদেশেরও বটে। এই নামকরণ উপহার দেয়ার জন্য আমি তাদের কাছে কৃতজ্ঞ।’
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেয়ার সময় চ্যান্সেলর জ্যাক কুইন বলেন, ‘আমি পশ্চিমা প্রকৌশলকে সমর্থন করার জন্য গর্বিত এবং আজকে এই চমত্কার নতুন ভবনটির নামকরণ করে আমার সহকর্মী ও বন্ধুকে সম্মান জানাতে পেরে আমিও আনন্দিত।’
অমিত চাকমা ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব পালন করছেন। আগামী জুনে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে দেবেন।
ইত্তেফাক/ইউবি