চান্দিনায় শিক্ষার্থীদের ঝুঁকি নিয়ে মহাসড়ক পারাপার

ব্যস্ততম ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে গড়ে উঠা চান্দিনা উপজেলার বড়গোবিন্দপুর আলী মিয়া ভূইয়া উচ্চ বিদ্যালয়। ওই বিদ্যালয়ের দুই তৃতীয়াংশ শিক্ষার্থীই প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মহাসড়ক পারাপার হয়ে স্কুলে আসা-যাওয়া করছে। এতে মারাত্মক দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে।
 
চান্দিনা উপজেলা সীমানার এক কোনে ওই বিদ্যালয়টির অবস্থান। যার এক পাশে রয়েছে দেবিদ্বার উপজেলা ও অপর পাশে রয়েছে বুড়িচং উপজেলার সীমানা। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দক্ষিণ পাশে চান্দিনা উপজেলার বড় গোবিন্দপুর গ্রামে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত আর মহাসড়কের উত্তর পাশে রয়েছে দেবিদ্বার উপজেলার বরকামতা ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রাম এবং পূর্ব ও উত্তরে রয়েছে বুড়িচং উপজেলার মোকাম ইউনিয়নের আরো অন্তত পাঁচটি গ্রাম। যার ফলে তিন উপজেলার প্রায় ১২শ শিক্ষার্থী নিয়মিত লেখাপড়া করছে ওই বিদ্যালয়টিতে। এদের মধ্যে প্রায় আট শতাধিক শিক্ষার্থী নিয়মিত মহাসড়ক পারাপার হয়ে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করছে।
 
এ বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত অবস্থায় যাতায়াত করে বিভিন্ন সময়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে দুইজন শিক্ষার্থীর মৃত্যু এবং অন্তত ১০ জন শিক্ষার্থী পঙ্গুত্ববরণ করেছে বলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহানারা নাছরিন জানিয়েছেন। দুর্ঘটনাপ্রবণ ওই স্থানটিতে একটি ফুট ওভার ব্রিজ নির্মাণ করা হলে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জীবনের নিরাপত্তা আসবে বলে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা দাবি করেছেন।
 
বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র আবদুল্লাহিল রাফি জানায়, ‘আমরা প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পাড় হই। প্রধানমন্ত্রীর নিকট অনুরোধ এখানে একটি ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করে আমাদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন।’
 
বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী নাদিয়া সুলতানা বলেন, ‘আমাদের অনেক ভাই বোন সড়কে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে পঙ্গু হয়েছেন। দুইজন মারা গিয়েছেন। এখানে একটি ফুট ওভার ব্রিজ নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি।’
 
প্রধান শিক্ষিকা এবং চান্দিনা উপজেলা সড়ক নিরাপত্তা কমিটির সদস্য জাহানারা নাছরিন বলেন- ‘আমাদের বিদ্যালয়ে প্রায় ১২ শত শিক্ষার্থী রয়েছে। এদের মধ্যে দুই তৃতীয়াংশ শিক্ষার্থী সড়ক পাড় হয়ে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করে। তাদের নিরাপত্তার কথা ভেবে বিদ্যালয় শুরুর আগে এবং ছুটির সময় শিক্ষকরা লাল পতাকা উঁচিয়ে গাড়ি চলাচল বন্ধ করে শিক্ষার্থীদের রাস্তা পারাপার করে দেন।’ তিনি আরো জানান, ‘উপজেলা সড়ক নিরাপত্তা কমিটির সভায় আমি এই বিষয়টি তুলে ধরে ফুট ওভার ব্রিজ নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহায়তা পাওয়ার চেষ্টা করেছি। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জীবনের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় এনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ একটি ফুট ওভার ব্রিজ নির্মাণ করে দিলে আমরা উপকৃত হবো।’
 
চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা সড়ক নিরাপত্তা কমিটির সভাপতি এসএম জাকারিয়া বলেন, ‘জেলা সড়ক নিরাপত্তা কমিটির সভায় শিক্ষার্থীদের জীবন ঝুঁকির বিষয়টি আমি উপস্থাপন করেছি। এই উপজেলার তিনটি স্থানে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য ফুট ওভার ব্রিজ স্থাপনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। এর মধ্যে এই বিদ্যালয়ের সামনে একটি ফুট ওভার ব্রিজ স্থাপনের প্রস্তাবনাও রয়েছে।’
 
ইত্তেফাক/নূহু