চরম দারিদ্রের কষাঘাত থামাতে পারেনি রিপনের মেধা, ঐকান্তিক ইচ্ছা ও নিরলস প্রচেষ্টাকে। ক্ষুদে পান দোকানির সন্তান রিপন এবার মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে এলাকাবাসীকে তাক লাগিয়ে দিলেও অর্থাভাবে তার ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করতে দুঃস্বপ্নে বিভোর হয়ে পড়েছে তার পরিবার।
পীরগঞ্জ উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের থুমনিয়া গ্রামের ভবেশ চন্দ্র রায় ও শোভা রানী রায়ের দরিদ্র পরিবারে জন্ম রিপন চন্দ্র রায়ের। তিন ভাই-বোনের মধ্যে রিপন সবার বড়। ছোট দুই বোনের একজন শহীদ সালাউদ্দীন উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ও অন্যজন ভুরভুসিকালী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫ম শ্রেণিতে পড়ে।
বাবা ভবেশ চন্দ্র একজন ক্ষুদে পান দোকানদার। দোকানের আয় থেকে ছেলে-মেয়ের লেখাপড়া ও সংসারের খরচ যোগাতে প্রতিনিয়ত হিমসিম খেতে হয় তাকে। উপায় না দেখে মা শোভা রানীকেও কৃষি শ্রমিক হিসেবে দিনমজুরের কাজ করতে হয়। দারিদ্রের কষাঘাত থেকে পরিবারকে মুক্ত করতে রিপন রায় স্বপ্ন দেখে লেখাপড়া করে বড় হওয়ার। সেই লক্ষ্যেই চলে তার পড়ালেখার নিরলস সংগ্রাম।
রিপন রায় জানায়, আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে থেকে পার্শ্ববর্তী কাহারোল উপজেলার জয়নন্দ উচ্চ বিদ্যালয় হতে ২০১২ সালে জেএসসিতে জিপিএ-৫ ও একই বিদ্যালয় থেকে ২০১৫ সালে এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। ২০১৭ সালে পীরগঞ্জ সরকারি কলেজ থেকে জিপিএ-৪.৯২ পেয়ে এইচএসসি পাস করে রিপন। সব শেষে যশোর মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পান তিনি।
রিপনের বাবা ভবেশ রায় জানান, নিজের জমি বলতে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া বাড়ির ভিটাটুকু ছাড়া আর কিছুই নেই। ছেলের লেখাপড়া ও সংসারের খরচ চালাতে হয় ছোট দোকানের স্বল্প রোজগার দিয়ে। সংসারে যখন নুন আনতে পান্তা ফুরায় অবস্থা। তখন ছেলের মেডিকেলের ভর্তির সুযোগ পাওয়ার খবর আনন্দের হলেও তার এ স্বপ্ন কীভাবে পূরণ হবে- এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তিনি। ছেলের ডাক্তার হবার ইচ্ছে থাকলেও সাধ্য না থাকায় তিনি মাঝে মাঝে চিন্তায় হতাশ হয়ে পড়েন।
রিপনের মা সোমা রায় বলেন, ‘ভগবান নিশ্চয়ই কোন একটা উপায় দেবেন। আমার ছেলের ইচ্ছা পূরণ করবেন।’
পীরগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. হাম্মাদুল বারসহ তার শিক্ষকরা জানান, লেখাপড়ার প্রতি একাগ্রতা ও নিরলস পরিশ্রমের পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা বান্ধব পরিবেশ রিপনকে সাফল্যের সিঁড়ি বেয়ে উঠতে সাহায্য করেছে। তাই দারিদ্রের কষাঘাত তার প্রবল ইচ্ছা ও মেধা শক্তিকে দমাতে পারেনি।
সৈয়দপুর ইউপি চেয়ারম্যান একরামুল হক জানান, রিপন হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান হয়েও মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে যেনে খুশি হয়েছি। তবে সাম্প্রতিক বিভিন্ন ব্যাংক, এনজিও ছাড়াও সমাজের বিত্তবানরা দরিদ্র ঘরের মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর দৃষ্টান্ত রয়েছে। রিপনের ক্ষেত্রেও তারা এগিয়ে আসবেন- প্রত্যাশা করছি।
ইত্তেফাক/বিএএফ