সুরের মূর্ছনায় জমেছে বাউল মেলা

বাউলের শিরোমণি ফকির লালন শাহের তিরোধান দিবস উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাউল ও ভক্ত-শিষ্য অনুরাগীসহ জনতার ঢল নেমেছে। কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়াস্থ লালন আখড়া চত্বর উৎসবমুখর ও মিলন মেলায় পরিণত হয়েছে। বাউল-বাউলানী, দেশি-বিদেশি পর্যটকসহ জনতার পদভারে লালন আখড়ায় এখন নেই তিল ধারণের ঠায়। 
 
তিন দিনের আয়োজিত অনুষ্ঠানে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উদ্বোধনী দিনে প্রধান অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়া -৩ আসনের এমপি মাহবুব-উল আলম হানিফ। বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত। জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান আলোচক ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি ড. শাহিনুর রহমান। স্বাগত বক্তা ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তরফদার সোহেল রহমান। 
 
বক্তারা বলেন, লালনের আধ্যাত্মিকতা ও দর্শন নিয়ে দেশ-বিদেশে গবেষণা হচ্ছে। ফকির লালন  ছিলেন অসাম্প্রদায়িক চেতনার মানুষ। তিনি জাতি ও ধর্মে কোন ভেদাভেদ না করে মানব কল্যাণের জন্য মানবতাবাদী গান গেয়ে গেছেনে। এছাড়া তার মানবতাবাদী গানের মধ্য দিয়ে দ্বন্দ্ব ও সকল হিংসা-বিদ্বেষ পরিহার করে মানুষে মানুষে ভালবাসার কথা বলে গেছেন। 
 
শিল্পীদের গান পরিবেশনার সময় দর্শক-শ্রোতারা কখনও পিন পতন নীরবতায় গান শুনেছেন আবার কখনওবা গানের তালে তালে মুখর হয়ে উঠেন। মরা কালি নদীর পাড়ে লালন একাডেমীর মূল মঞ্চের গানের অনুষ্ঠান ছাড়াও মাজারের চারিদিকে একতারার টুং-টাং শব্দ ও নানা বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে বাউল শিল্পীরা খণ্ড খণ্ড গানের আসর বসিয়েছেন। 
 
মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার কুমারীডাঙ্গা গ্রামের বাউল ফকির আব্দুর রহমান জানান, প্রতি বছরই সাধক লালনের মৃত্যুবার্ষিকী ও দোল পূর্ণিমার তিথিতে আয়োজিত স্মরণোৎসব অনুষ্ঠানে এসে সাঁইজির দর্শন ও তার নির্দেশিত পথ অনুসরণ করার চেষ্টা করেন। প্রাণের টানেই লালন মাজারে তিনি ছুটে আসেন বলে জানান।
 
ইত্তেফাক/জেডএইচ