পঞ্চগড়ে স্ত্রীকে হত্যা মামলায় স্বামী গ্রেপ্তার

পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলায় লিজা আক্তার (৩৫) নামে এক গৃহবধূকে হত্যা করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে জেলার বোদা উপজেলার বেংহারি বনগ্রাম ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে বুধবার নিহত লিজার ভাই হাসিবুল ইসলাম বাদী হয়ে ৩ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করলে লিজার স্বামী আজিজুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
 
আসামিরা হল- লিজার স্বামী আজিজুল ইসলাম (৫৫), আজিজুলের বেহাই আব্দুস সালাম (৫০) ও আজিজুলের প্রথম স্ত্রীর বড় ছেলে আল আমিন (২৫)।
 
পুলিশ ও পরিবারের লোকজন জানান, বোদা উপজেলার বেংহারি বনগ্রাম ইউনিয়নের ইসলামপুর এলাকার হাসান আলীর ছেলে আজিজুল ইসলামের প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পর ২০১০ সালে একই উপজেলার ময়দানদিঘী ইউনিয়নের গাইঘাটা এলাকার আব্দুল গফুরের মেয়ে লিজা আক্তারকে বিয়ে করেন। এর পর তাদের সংসারে দুটি ছেলে রয়েছে। বড় ছেলে মামুন (৬) ও ছোট ছেলে মোমিন (৪)। পারিবারিক কলহের জের ধরে ওই গৃহবধূকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় বলে পরিবারের লোকজন দাবি করেছে। রাতেই পুলিশ সুরতহাল শেষে লাশ বোদা থানায় নিয়ে যায়।
 
বুধবার ওই গৃহবধূর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।
 
লিজার স্বজনদের দাবি, বেশ কিছুদিন আগে আজিজুল তার ৫০ শতক জমি বিক্রি করে প্রথম স্ত্রীর ছেলে মেয়েদের মাঝে বিলি-বণ্টন করেন। এখন সর্বশেষ ভিটাবাড়ির ১০ শতক জমি বিক্রি করে দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন আজিজুল। এ নিয়ে দ্বিতীয় স্ত্রী লিজার সঙ্গে ঝগড়া চলছিল আজিজুলের। স্বামী আজিজুল ইসলামের কাছে দ্বিতীয় স্ত্রী লিজা আক্তারের দুই ছেলেকে বাড়ি ভিটা লিখে দিতে চাপ দেন। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে ঝগড়া বিবাদ শুরু হয়। এক পর্যায়ে আজিজুল ইসলাম তার বেহাই (পূর্বের স্ত্রীর বড় ছেলের শ্বশুর) আব্দুস সালামের সহায়তায় রাতে বালিশ চাপা দিয়ে স্ত্রী লিজাকে হত্যা করে। হত্যার পর বাড়ির পাশের একটি গাছে ওড়না দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে রাখে। সেখান থেকে লাশ ছিড়ে মাটিতে পড়ে গেলে তারাই স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের খবর দেয়। পরে বিষয়টি বোদা থানা পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। মাকে বালিশ চেপে হত্যার সময় লিজার বড় ছেলে মামুন (৬) দেখে ফেলেছেন বলে জানান পরিবারের লোকজন।
 
লিজার ছোট ভাই হাসিবুল ইসলাম বলেন, ভিটামাটি বিক্রি করা নিয়ে পারিবারিক কলহের জের ধরে আজিজুল, আব্দুস সালাম ও আল আমিন মিলে আমার বোনকে হত্যা করেছে। আজিজুল আমার বোনকে বিভিন্ন সময় নির্যাতন করতো। বিষয়টি নিয়ে বিচার শালিসও হয়েছে। কিন্তু আজিজুল কারো বিচার মানে না।
 
বোদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম নুরুল ইসলাম প্রাথমিক তদন্তে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ৩ জনের নাম অজ্ঞাতনামা ৩ জন আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। স্বামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
 
ইত্তেফাক/বিএএফ