সাভারে গণস্বাস্থ্য সমাজ ভিত্তিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকদের অবহেলায় এক নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগে পাওয়া গেছে। বুধবার দিবাগত রাতে আশুলিয়ায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের হাসপাতালে এ নবজাতক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় হাসপাতালটির দুই প্যারামেডিক চিকিৎসককে আটক করেছে পুলিশ।
আটককৃতরা হল- প্যারামেডিক চিকিৎসক শিল্পী খাতুন ও মনি আক্তার।
এর আগে মঙ্গলবার রাতে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীসহ চার জনের বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় চাঁদাবাজি ও জমিদখলের অভিযোগে মামলা করেন ভুক্তভোগী জমির মালিকগণ।
নিহত নবজাতকের বাবা পল্লীবিদ্যুৎ এলাকার ফার্মেসি ব্যবসায়ী মনিরুজ্জামান অভিযোগ করে বলেন, গত ১৩ অক্টোবর প্রসব বেদনা শুরু হলে তার স্ত্রী লাইজু বেগমকে গণস্বাস্থ্য হাসপাতালে ভর্তি করেন। এরপর কয়েক দফা আল্ট্রাসনোগ্রাম ও বিভিন্ন টেস্টের মাধ্যমে প্রসূতি ও তার শিশু সুস্থ আছে বলে জানায় চিকিৎসকরা। কিন্তু মায়ের গর্ভে থাকা শিশুর ওজন প্রায় সাড়ে তিন কিলোগ্রাম হওয়ায় তারা চিকিৎসকদের বারবার সিজার করতে অনুরোধ জানিয়ে আসছিলেন। কিন্তু চিকিৎসকরা তাদের কথায় কর্ণপাত না করে উল্টো তাদের সঙ্গে রূঢ় আচরণ করে বলেন- ডা. জাফরুল্লাহ সাহেবের অনুমতি ছাড়া কোন অবস্থাতেই সিজার করা সম্ভব নয়। পরে বুধবার রাতে তার স্ত্রীর প্রসব বেদনা প্রকট হলে তারা আবারও প্রসূতিকে সিজার করানোর অনুরোধ করেন। কিন্তু ওই সময় গাইনি ওয়ার্ডে কর্তব্যরত শিক্ষানবিস চিকিৎসক নাহিদ মোক্তাদির ও শাকিল তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। পরে শিল্পী খাতুন, মনি আক্তার, জুয়েনা ও তাসলিমা নামে চার প্যারামেডিক চিকিৎসকসহ ছয় নার্স স্বাভাবিক প্রসবের জন্য তার স্ত্রীকে নিয়ে যায়। এরপর প্রসব বেদনায় দীর্ঘক্ষণ তার স্ত্রী উচ্চস্বরে চিৎকার করতে থাকে। ভোরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, মৃত নবজাতকের জন্ম হয়েছে।
নিহত নবজাতকের মা লাইজু বেগম অভিযোগ করে বলেন, স্বাভাবিক প্রসবের জন্য নার্স ও প্যারামেডিক চিকিৎসকরা দীর্ঘক্ষণ তার পেটে চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। এতে প্রচণ্ড ব্যথায় তিনি চটপট করলেও তার কথা কেউ শোনেনি। এমনকি তার প্রসবের সময় ইন্টার্ন চিকিৎসক ছাড়া কোন চিকিৎসক ছিলনা।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, চিকিৎসকদের অবহেলার কারণেই তার সন্তান পৃথিবীর আলো দেখতে পারেনি।
অভিযোগের বিষয়ে হাসপাতালটির গাইনি বিভাগের ইনচার্জ ডা. তামান্না দিলরুবা ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত না থাকলেও নবজাতকের মৃত্যু নিছক দুর্ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের হাসপাতাল কোন প্রাইভেট ক্লিনিক নয় যে এখানে বেশি টাকার বিনিময়ে রোগীদের জিম্মি করে সিজার করাব। ওই নারী নরমাল ডেলিভারির জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত ছিল। তবে দুর্ঘটনাবশত তার নবজাতক মারা গেছে।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) জাবেদ মাসুদ জানান, প্রাথমিক তদন্তে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও কর্তব্যরত চিকিৎসকদের অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যুর বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। এ ঘটনায় দুই প্যারামেডিক চিকিৎসককে আটক করা হয়েছে।
হাসপাতালটির প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবু তাহের বলেন, চিকিৎসা অবহেলায় নয় বরং মৃত নবজাতকই প্রসব হয়েছে।
ইত্তেফাক/বিএএফ