কানাডায় গাঁজা বৈধতা পেল

আজ থেকে কানাডায় আনুষ্ঠানিক ভাবে শর্ত সাপেক্ষে মারিজুয়ানা অর্থাৎ গাঁজা বৈধতা পেল। ২০১৫ সালের নির্বাচনী প্রচারণাকালে প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি মোতাবেক গত ৭ জুন সি-৪৫ (ক্যানাবিস আইন) নামের বিলটি সিনেটে উপস্থাপনের পর এর উপকারিতা এবং অপকারিতার তর্ক-বিতর্কের পক্ষে-বিপক্ষের পর যথাক্রমে ৫২ এবং ৩০ ভোটে বিলটি পাস হয়। পরে আইন প্রণীত করে আজ থেকে তা কার্যকর হয়ে যাচ্ছে।
 
তবে বিলটিতে বলা হয়েছে, ১৮ বছরের বেশি বয়সের একজন ব্যক্তি নিজের ব্যবহারের জন্য সর্বোচ্চ ৩০ গ্রাম পর্যন্ত গাঁজা অধিকার করতে পারবেন এবং তা আভ্যন্তরীণ বিমানেও বহন করতে পারবেন। এছাড়াও নিজের বাড়িতে চারটি গাছ লাগাতে পারবেন বলে খবরে জানা যায়। তবে দেশটির প্রদেশগুলো নিজেদের মতো করে এ আইনের আলাদা আলাদা সংস্করণ তৈরি করে নিতে পারবে।
 
ইতোপূর্বে কানাডায় চিকিৎসার কাজে গাঁজার ব্যবহার বৈধ। দেশটির শতকরা কুড়িজন গাঁজা সেবনকারী। আর বৈধ করা হলে গাঁজা সেবন করবেন আরো ১০% বেশি নাগরিক। অর্থাৎ গাঁজা সেবনকারীর সংখ্যা দাঁড়াবে শতকরা ৩০ ভাগে। পরিসংখ্যানবিদদের হিসেব মতে, গাঁজা উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের মাধ্যমে দেশটিতে প্রায় ৫.৭ বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা তৈরি হতে চলেছে।
 
জানা যায়, কানাডার বিভিন্ন খুচরা দোকানেই পাওয়া যাবে গাঁজা এবং ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইন তা বিক্রি হবে। ইতোমধ্যেই ১০৫টি বাণিজ্যিক সংস্থা দেশটিতে গাঁজা উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের জন্য অনুমোদন পেয়েছে। আর একজন ব্যক্তি নিজ বাড়িতে সর্বোচ্চ চারটি গাঁজা গাছ রাখতে পারবেন। তাছাড়া গাঁজার বৈধ লেনদেনের মাধ্যমে প্রতিবছর বিপুল অংকের ট্যাক্স পেতে চলেছে কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকার।
 
উল্লেখ্য, বিশ্বব্যাপী গাঁজাসেবীদের স্বঘোষিত ‘গাঁজা সেবন দিবস’-এ কানাডা সরকারের ঘোষণাটি আসে। এ দিন (২০ এপ্রিল) রাজধানী অটোয়ায় কয়েকশত গাঁজাসেবী দেশটির পার্লামেন্টের বাইরে গাঁজা সেবন বৈধ করার পক্ষে মিছিল করে।
 
সিংহভাগ কানাডিয়ান গাঁজা বৈধ করার পক্ষে। তাই বৈধ করা হলে শতকরা ৩০ ভাগই গাঁজা সেবন করবেন। ফোরাম রিসার্স পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, ২০১৪ সালে কানাডায় শতকরা বিশ জন গাঁজা সেবন করেছেন। আর জরিপে অংশগ্রহণকারী শতকরা ৩০ বলেছেন, বৈধতা পেলে আগামী বছর তারা গাঁজা সেবন করবেন। তাছাড়া কানাডিয়ানদের মধ্যে শতকরা ৫৯ জন নাগরিক মনে করেন কিছু কিছু শর্ত আরোপ করে গাঁজাকে বৈধতা দেয়া উচিৎ। নভেম্বর মাসের ৪-৭ তারিখের মধ্যে ১২৫৬ জন কানাডিয়ান নাগরিকের মধ্যে পরিচালিত ঐ জরিপে উঠে এসেছে এ সব তথ্য। ফোরাম রিসার্সের প্রেসিডেন্ট লরনে বজিনফ বলেন, প্রাপ্ত তথ্য থেকে দেখা যাচ্ছে কানাডিয়ানরা গাঁজার ব্যাপারে আগের তুলনায় বর্তমানে অধিক নমনীয়। গাঁজা সেবনকে বৈধতা দানের পক্ষে ছিলেন শতকরা ৫৩ জন। কানাডায় যারা গাঁজা সেবন করছেন তাদের মধ্যে যুবক-যুবতীর সংখ্যাই বেশি। শতকরা ৩৪ ভাগ। পুরুষদের সংখ্যা শতকরা ২৩ ভাগ।
 
মজার ব্যাপার, ট্রুডো নিজেও স্বীকার করেন যে, তিনি শখ করে বন্ধুদের সঙ্গে পাঁচ থেকে ছয়বার গাঁজা টেনেছেন।
 
ইত্তেফাক/আরকেজি