কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের বেহাল দশা

অতিরিক্ত পণ্য ও ত্রাণবাহী যানবাহন চলাচলের কারণে কক্সবাজার-টেকনাফ ৭৯ কিলোমিটার সড়ক বেহাল দশা সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে ২৫ আগস্টের  পর থেকে মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা উখিয়া টেকনাফে আশ্রয় নেওয়ায় তাদের মানবিক সেবায় প্রায় আড়াই শতাধিক এনজিও সংস্থার ত্রাণবাহী ও বাণিজ্যিকভাবে ভারী পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল অব্যাহত থাকার কারণে পুরো সড়কটিতে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে।
 
বুধবার গ্যাস সিলিন্ডার ও ত্রাণবাহী দুটি ট্রাক থাইংখালী কবরস্থান এলাকায় প্রধান সড়কে দেবে গিয়ে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে উভয় দিকে শতশত যানবাহন আটকা পড়ে যায়। এ সময় যাত্রীদের অসহনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
 
স্থানীয় চৌকিদার রফিক আহমদ জানায়, ওই স্থান সড়ক ও জনপদ বিভাগ একটি নিম্নমানের কালভার্ট তৈরি করে। যেখানে বৃষ্টির পানি সবসময় জমাট বেধে থাকে। যে কারণে ভারসাম্য হারিয়ে গাড়ি দুটি সেখানে আটকা পড়ে যায়। রাত ১০টার দিকে সেনাবাহিনীর ক্রাইং ব্যবহার করে গাড়ী দুটি সরিয়ে ফেলা হলে সড়ক যোগাযোগ সচল হয়ে পড়ে।
 
কোটবাজার ট্রাক মালিক চালক সমবায় সমিতির সভাপতি মো. শাহজাহান জানান, মূলত এ সড়কটি নির্মিত হয়েছিল ১০ টন ওজনের পণ্যবাহী যানবাহন চলাচলের জন্য। বর্তমানে এ সড়কের ওপর দিয়ে প্রতিদিন শত শত ইট, সিমেন্ট, বালি ও ত্রাণ সামগ্রী ভর্তি গাড়ি চলাচলের কারণে সড়কটির বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে।
 
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নিকারুজ্জামান জানান, রোহিঙ্গা কেন্দ্রিক সড়ক দখল করে হাজার হাজার দোকানপাট গড়ে উঠেছে। বাণিজ্যিকভাবে গড়ে উঠা এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কারণে সড়ক পথ সংকুচিত হয়ে পড়েছে। দুর্ঘটনা এড়াতে এসব দোকানপাট নিজ উদ্যোগে সরিয়ে নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যথাসময়ে উক্ত দোকানপাট সরিয়ে নেওয়া না হলে প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবে।
 
এ প্রসঙ্গে সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রানা প্রিয় বড়ুয়া জানান, কক্সবাজার ৭৯ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়নের মাধ্যমে শরণার্থীদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ, পরিবহন সহজ করার পাশাপাশি যানবাহন চলাচল সহজতর করতে একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। ৪৫৮ কোটি ৩২ লক্ষ টাকা বরাদ্ধে এ প্রকল্পের কাজ ২০২১ সালের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে।
 
ইত্তেফাক/বিএএফ