হাটহাজারীতে কিশোরীর লাশ উদ্ধার, আটক ১

হাটহাজারীতে কলি (১৭) নামে এক নিখোঁজ কিশোরীর গলিত লাশ উদ্ধার করেছে হাটহাজারী মডেল থানা পুলিশ। বুধবার ১৭ অক্টোরব রাত প্রায় দশটার দিকে উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের চারিয়া গ্রামের দানু মিয়া কোম্পানীর ফাইভ টু ফাইভ ব্রিক ফিল্ডের অস্থায়ী টয়লেটের রিং দিয়ে তৈরি ট্যাংকি থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। যার নাম্বার ২৫/১৮/১০/১৮ ইং। উদ্ধার করা লাশটি উক্ত ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের খিল্লা পাড়া তুফানের বাড়ির চুট্টু মিয়ার কন্যার বলে জানা গেছে। 
 
থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় জনতা উল্লেখিত এলাকার টয়লেটের ট্যাংকে একটি লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্তি পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মাসুম, মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ বেলাল উদ্দীন জাহাংগীর এবং ওসি (তদন্ত) মো. শামীম শেখ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। তারা লাশটি উদ্ধার করেন। এরপর কিশোরীর গলিত লাশটির সুরুতহাল রিপোর্ট তৈরি করে ময়না তদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে প্রেরণ করে পুলিশ।
 
এ ঘটনায় নিহতের পরিবার হত্যা মামলা দায়ের করে। মামলা হওয়ার পর অভিযুক্ত তিন সন্তানের জনক নজরুল ইসলাম প্রকাশ মিঠুকে আটক করে পুলিশ। আটককৃত মিঠু মির্জাপুর ইউনিয়নের নোয়াপাড়া সন্দ্বীপ কলোনীর মো. নাছিরের পুত্র।
 
নিহত কিশোরীর মামা মো. শহিদ সাংবাদিকদের জানান, প্রায় এক বছর ধরে মির্জাপুর ইউনিয়নের নোয়াপাড়া সন্দ্বীপ কলোনীর মো. ইফনুচ মিয়ার ছেলে তিন সন্তানের জনক নজরুল মিঠু নামে এক বখাটে কিশোরী কলি আক্তারকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। এমনকি বিয়ের প্রস্তাবও করেছিল। কিন্তু ওই বখাটে বিবাহিত হওয়ার কারণে নিহতের পরিবার ও কলি আক্তার তিন সন্তানের পিতা মিঠুর প্রেমের প্রস্তাবে রাজি হয় না। একে ক্ষিপ্ত হয়ে মিঠু গত ১৩ অক্টোবর (শনিবার) সন্ধ্যা ৭টার দিকে কলিকে তুলে নিয়ে যায়। এলাকায় জানাজানি হলে মান-সম্মানের কথা চিন্তা করে কাউকে কিছু জানায়নি। আশা ছিল ওই বখাটে কলিকে বাসায় পৌঁছে দেবে। 
 
মডেল থানার ওসি বেলাল উদ্দীন জাহাঙ্গীর ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে দৈনিক ইত্তেফাককে জানান, এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
 
প্রসঙ্গত, নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৯টার দিকে হাটহাজারী পৌরসভার শাহাজালাল পাড়ার একটি ভবন থেকে আরেকটি লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। মৃতদেহটি গড়দুয়ারা ইউনিয়নের নেয়ামত আলী সারাং বাড়ির আবু তৈয়বের মেয়ের। সে হাটহাজারী গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৮ম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। তার নাম তাসনিম সুলতানা তুহিন (১৩)।
 
তুহিনের গলিত লাশ একই ভবনের চতুর্থ তলার একটি ফ্ল্যাটের ড্রয়িং রুমের সোফার নিচ থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় উদ্ধার করেছিল থানা পুলিশ। তুহিন হত্যা মামলার প্রধান আসামি ওই ভবনের ভাড়াটিয়া পৌর এলাকার চন্দ্রপুর গ্রামের পল্লী চিকিৎসক মো. শাহাজাহান সিরাজের ছেলে শাহানেওয়াজ মুন্না। তাকে আটক করে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। কিন্তু প্রায় এক মাস পেরিয়ে গেলেও আটক করা যায়নি এ হত্যা মামলার ২ ও ৩ নং আসামিকে। গত মাসের ১৪ সেপ্টেম্বর মুন্না তুহিনকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছিল।
 
ইত্তেফাক/নূহু