নরসিংদীতে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের অভিযানে নিহত জঙ্গি আবদুল্লাহ আল বাঙ্গালীর বাড়ি ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে। সে উপজেলার বেজপাড়া গ্রামের মৃত রবিউল ইসলামের ছেলে। মার নাম মর্জিনা বেগম।
তবে পরিবার ও এলাকাবাসীর কাছে সে গোলাম মোস্তফা ওরফে রুবেল নামে পরিচিত। তার স্ত্রী ঢাকার গাজীপুর এলাকার শহিদুল ইসলামের মেয়ে। সে মানারাত বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ছিল বলেও জানা গেছে।
সোমবার দিবাগত রাত থেকে নরসিংদী জেলার মাধবদী উপজেলার শেখেরচরে জঙ্গি আস্তানা ঘিরে রাখে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট ও পুলিশ সদর দপ্তরের এলআইসি শাখার সদস্যরা। মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটায় ওই বাড়িতে ‘অপারেশন গর্ডিয়ান নট’ চালানো হয়। এতে নিহত হন আবদুল্লাহ আল বাঙ্গালী ও তার স্ত্রী আকলিমা আকতার মনি। পুলিশের দাবি নিহত আবদুল্লাহ আল বাঙ্গালী নব্য জেএমবির মিডিয়া শাখার প্রধান।
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে বেজপাড়া গ্রামের তার স্বজন ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আব্দুল্লাহ ওরফে মোস্তফার বাবা মারা গেলে তার মা বাবার চাচাতো ভাই আব্দুল মান্নানকে দ্বিতীয় বিয়ে করে। আব্দুল্লাহ গ্রামের হাইস্কুলে থেকে এসএসসি পাশ করার পর কালীগঞ্জ মাহাতাব উদ্দিন কলেজ থেকে এইচ এস সি পাশ করে। এরপর আব্দুল্লাহ ওরফে মোস্তফা যশোর এমএম কলেজে ভর্তি হয়। সে অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিল। সেখানে একটি ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগদানকারী প্রতিষ্ঠানে চাকরিও করতো। এরপর ঢাকায় চলে যায়। সে বাড়ি আসতো না। মার সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলতো।
কালীগঞ্জ থানার ওসি ইউনুস আলি বলেন, তার মা মর্জিনা বেগমকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদকালে জানান, ৫-৬ মাস আগে জানতে পারেন ছেলে আব্দুল্লাহ আকলিমা আক্তার মনির সঙ্গে প্রেম করে বিয়ে করেছে। পড়াশোনা করায় তার স্ত্রী বাবার বাড়িতেই থাকতো। তবে ছেলে প্রতি মাসে মাকে ৫শ কিংবা হাজার টাকা করে পাঠাতো। গত ৩ মাস ধরে ছেলে ফোন করতো না। টাকাও পাঠাতো না।
বেজপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফিরোজ আহমেদ স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেন, গত ৭-৮ মাস ধরে মোস্তফার চলাফেরা সন্দেহজনক ছিল।
ঝিনাইদহের পুলিশ মোঃ হাসানুজ্জামান বলেন, খবর পাওয়ার পর আব্দুল্লাহ সম্পর্কে খোঁজ নিচ্ছে পুলিশ।
ইত্তেফাক/নূহু