বানারীপাড়া সদর ইউনিয়নের ব্রাক্ষ্মণকাঠি গ্রামে সিদ্দিকুর রহমান (৫৫) নামের এক ব্যক্তিকে পাগল আখ্যা দিয়ে নির্মম নির্যাতন করে পায়ে শিকল বেঁধে আটকে রাখা হয়েছে। গত তিন দিন ধরে নিজ ঘরের খাটের সঙ্গে পায়ে শিকল বাঁধা অবস্থায় বিনা চিকিৎসায় সে মৃত্যুর প্রহর গুণছে।
জানা গেছে, সদর ইউনিয়নের ব্রাক্ষ্মনকাঠি গ্রামের সিদ্দিকুর রহমান ওরফে সিদ্দিক মুন্সী বাড়ির পাশের সন্ধ্যা নদীতে চিংড়ি মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলো। তার পরিবার জানায় মাঝেমধ্যে তিনি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। আবার কিছুদিন পরে স্বাভাবিক হয়ে যান। এক সপ্তাহ পূর্বে তিনি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়ে যান। তার চারদিন পর বুধবার তাকে উজিরপুর উপজেলার হারতা এলাকার একটি দুর্গা মন্দিরে আরতী নৃত্যরত অবস্থায় পাওয়া যায়। সেখান থেকে তাকে তার জামাতা আব্বাস ও শ্যালক আসলাম শরীফ বেদম মারধর করে দড়ি দিয়ে বেঁধে বানারীপাড়ার ব্রাক্ষ্মনকাঠি গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসে। তারপর তাকে নিজ ঘরের একটি কক্ষে অমানবিকভাবে খাটের সঙ্গে পায়ে শিকল বেঁধে আটকে রাখে।
মারধরে তার মাথা ফেটে যাওয়াসহ সারা শরীর রক্তাক্ত হয়ে সে গুরুতর আহত হলেও কোনো প্রকার চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। বরং প্রতিদিন অনেকগুলো ঘুমের ঔষধ খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হচ্ছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন সিদ্দিক মুন্সীর টাকা ও সম্পত্তি আত্মসাৎ করতে সুপরিকল্পিতভাবে জামাতা আব্বাস তাকে নির্দয়ভাবে নির্যাতন করে পাগল সাজানোর অপচেষ্টা করছে। স্থানীয়দের দাবী ধর্মভিরু সিদ্দিক মুন্সীর মন্দিরে গিয়ে আরতী নৃত্য করার প্রশ্নই ওঠে না। তিনি মসজিদে গিয়ে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেন।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা মানবাধিকার কমিশনের সভাপতি এটি এম মোস্তফা সরদার বলেন নির্যাতন করে বিনা চিকিৎসায় শিকল বেঁধে আটকে রাখা চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন। এর সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা উচিৎ। ওসি মো. খলিলুর রহমান জানান, এ ব্যাপারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
ইত্তেফাক/নূহু