ঘোড়াঘাটে গৃহবধূ বিউটিকে হত্যা না আত্মহত্যা

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে গৃহবধূ বিউটি আক্তারের মৃত্যু হত্যা না আত্মহত্যা এ নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। শনিবার ঘোড়াঘাট থানার দাখিল করা এজাহার সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার রামপাড়া গ্রামের মৃত ফজলার রহমানের কন্যা বিউটি আক্তারের (৩২) ১ বছর আগে বিয়ে হয় একই গ্রামের আঃ হান্নানের পুত্র রেজাউল করিমের সঙ্গে। বিয়ের পর থেকে রেজাউল করিম বিভিন্নভাবে এক লাখ ১০ হাজার টাকা যৌতুক হিসেবে নেয়। পরবর্তীতে রেজাউল করিম মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে গিয়ে পুনরায় টাকার জন্য স্ত্রী বিউটি আক্তারকে শারীরিক নির্যাতন করতে থাকে। 
 
পনের দিন আগে মাদক মামলায় রেজাউল করিম জেল থেকে জামিনে আসে। গত ১৭ অক্টোবর রাত ৮টার দিকে রেজাউল করিম পুনরায় টাকার জন্য স্ত্রী বিউটি আক্তারকে ঘরের ভিতরে দরোজা লাগিয়ে বেধড়ক মারপিট করতে থাকে। তার চিৎকারে পার্শ্ববর্তী বাড়িতে বসবাসরত বিউটি আক্তারের মা মিনারা বেগম ও তার পুত্রবধূসহ মেয়ের ঘরে প্রবেশ করতে চাইলে দেখে যে, ঘরের দরোজা বন্ধ। অনেক ডাকাডাকির পর জামাই রেজাউল দরোজা খুলে দিলে তারা দেখেন মেয়ে অজ্ঞান অবস্থায় মেঝেতে পড়ে আছে। 
 
তাকে তাড়াতাড়ি ঘোড়াঘাট হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তার অবস্থার অবনতি দেখে রংপুর মেডিকেলে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। তাৎক্ষণিক বিউটি আক্তারকে রংপুর মেডিকেলে ভর্তি করার পর রাত দেড়টায় তিনি মারা যান। রংপুর মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ বিউটি আক্তারের লাশ ময়না তদন্ত শেষে হস্তান্তর করলে স্বজনরা ১৯ অক্টোবর সকালে লাশ দাফন করে।
 
এ ব্যাপারে বিউটি আক্তারের মা মিনারা বেগম বাদী হয়ে তিনজনকে আসামি করে ঘোড়াঘাট থানায় এজাহার দাখিল করেছে। এ ব্যাপারে ঘোড়াঘাট থানার প্রধান কর্মকর্তা আমিরুল ইসলামের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, ময়না তদন্ত ও মেডিকেল সার্টিফিকেট পেলেই নিয়মিত মামলা রুজু করা হবে।
 
অপর দিকে বিউটি আক্তারের স্বামী রেজাউল করিমের সঙ্গে কথা হলে সে জানায়, তার স্ত্রী বিষপানে আত্মহত্যা করেছে। 
 
বাদী মিনারা বেগম জানান, তার মেয়েকে মারপিট করে অজ্ঞান অবস্থায় তার মুখে বিষ জাতীয় পদার্থ ঢেলে দিয়ে মিথ্যা প্রচারণা চালানো হচ্ছে। 
 
এ দিকে সংশ্লিষ্ট সিংড়া ইউপি চেয়ারম্যান আঃ মান্নান মন্ডলের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, ইঁদুর মারা ট্যাবলেট খেয়ে তিনি আত্মহত্যা করেছে বলে তিনি জানান। এ ব্যাপারে রংপুর কোতোয়ালী থানায় একটি ইউডি মামলা হয়েছে বলে ইউপি চেয়ারম্যান জানান।
 
ইত্তেফাক/নূহু