দুইদিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে ২০ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় চমেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেলেন রাউজানের মো. ফখরুল ইসলাম (২৮)। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ছয়টায় উপজেলা শহরের গহিরা জনতা ব্যাংক সংলগ্ন আবু তাহের ভবনের ৩ তলাস্থ তার সাবেক স্ত্রীর ভাড়া বাসার ছাদ থেকে হাত-পা বাঁধা গলাকাটা অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে। পরে উদ্ধারকারীরা তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় প্রথমে গহিরাস্থ জেকে মেমোরিয়াল হাসপাতালে নেয়। পরে সেখান থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল হতে তার তালাক নেওয়া স্ত্রী ও শাশুড়িকে আটক করে।
নিহত ঐ যুবক উপজেলার পৌর এলাকার ২নম্বর ওয়ার্ডের গহিরা মোবারকখীল গ্রামের শুক্কুর মিস্ত্রির বাড়ীর মো. তাজুল ইসলামের পুত্র। শুক্রবার ফখরুলের ছোট ভাই নুরুল ইসলাম বাদী হয়ে হত্যার চেষ্টায় একটি মামলা দায়ের করেছিলেন।
রাউজান থানা পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, এক বছর পূর্বে গহিরা ইউনিয়নের দলই নগর গ্রামের আবু বক্কর বাবুলের কন্যা উম্মে হাবিবা মায়ার (১৮) সঙ্গে ফখরুল ইসলাম বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। ২ মাস আগে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে স্থানীয়রা ওই বাসায় আগুনের শিখা ও ধোঁয়া দেখে এগিয়ে আসেন। তারা আগুন নেভাতে সক্ষম হলেও কিছু আসবাবপত্র পুড়ে যায়। এমতাবস্থায় চিৎকার শুনে ছাদে উঠে পা বাঁধা ও গলাকাটা অবস্থায় ফখরুলকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতাল ও পরে সেখান হতে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়।
আহত ফখরুলের মা জাহানারা বেগম বলেন, বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টায় আমার ছেলেকে ফোনে ডেকে নিয়ে যায়। পরে আমার কাছে খবর আসে আমার ছেলেকে জবেহ করা হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রাউজান থানার সেকেন্ড অফিসার নুরুন নবী দৈনিক ইত্তেফাককে বলেন, শনিবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ফখরুল। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফখরুলকে তার সাবেক স্ত্রীর ভাড়া বাসার ছাদ হতে গালাকাটা অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রেরণ করেছিল। এই ঘটনায় তার স্ত্রী ও শাশুড়িকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার পরদিন তার ছোট ভাই বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।
ইত্তেফাক/নূহু