মির্জাপুরে ভাইস প্রিন্সিপাল ও প্রিন্সিপালের দ্বন্দ্বে শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন বন্ধ

প্রিন্সিপালের দায়িত্বভার বুঝিয়ে না দেওয়ায় ভাইস প্রিন্সিপাল ও প্রিন্সিপালের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্বের জের ধরে শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন ভাতা বন্ধ হয়ে গেছে। ভাইস প্রিন্সিপাল, প্রিন্সিপালকে দায়িত্বভার বুঝিয়ে না দেওয়ায় স্বাক্ষরের অভাবে ব্যাংকে সরকারি অংশের বেতন ভাতার বিল জমা দিতে পারেনি কলেজ কর্তৃপক্ষ। ফলে কলেজের ৭২ জন শিক্ষক কর্মচারী ব্যাংক থেকে বেতন ভাতা উত্তোলন করতে না পেরে মানবেতর জীবন যাপন করছেন বলে অভিযোগ করেছেন।
 
দ্বন্দ্বের কারণে কলেজে অচলাবস্থা বিরাজ করায় শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। টাঙ্গাইলের মির্জাপুর সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে এ ঘটনাটি ঘটেছে। 
 
ভাইস প্রিন্সিপাল দায়িত্বভার বুঝিয়ে না দেওয়ায় প্রিন্সিপাল মো. সালাউদ্দিন আহমেদ বাবর আজ রবিবার উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আব্দুল খালেকের বরাবর দায়িত্বভার বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য লিখিত ভাবে আবেদন করেছেন।
 
জানা গেছে, ১৯৭০ সালে প্রতিষ্ঠিত মির্জাপুর কলেজ একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ছিল। এইচএসসি শাখা, ডিগ্রি পাস কোর্স ও অনার্স কোর্স শাখায় ছাত্র-ছাত্রী সংখ্যা প্রায় ৫ হাজার। স্থানীয় সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ মো. একাব্বর হোসেনের প্রচেষ্টায় কলেজটি অনার্স কোর্স চালু ও বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে রূপান্তর লাভ করে। সর্বশেষ গত ১২ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতায় কলেজটি জাতীয়করণের তালিকাভুক্ত হয়ে সরকারিকণ ও প্রজ্ঞাপণ জারি হয়।
 
কলেজ সূত্র জানায়, বর্তমান প্রিন্সিপাল মো. সালাউদ্দিন আহমেদ বাবরের চাকরির মেয়াদ শেষ হয় ২০১৭ সালের ১১ মার্চ। তার চাকরির মেয়াদ শেষ হলে কলেজ গভর্নিং বডির সিদ্ধান্ত ও সুপারিশ অনুযায়ী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সংসোধিত রেগুলেশন ২০১৫ এর ১৪(খ) ১ এর ধারা ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটে অনুমোদন সাপেক্ষে তার চাকরির মেয়াদ ২০১৯ সালের ১১ মার্চ পর্যন্ত দুই বছরের জন্য পুনঃনিয়োগ দেওয়া হয়। বিধিমোতাবেক তিনি অতিরিক্ত দুই বছরের জন্য প্রিন্সিপালের নিয়োগ পেয়ে দায়িত্বপালন করে আসছেন।
 
এদিকে চলতি বছরের ২২ জুলাই থেকে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রিন্সিপাল মো. সালাউদ্দিন আহমেদ বাবর পবিত্র হজ পালনরে জন্য স্বপরিবারে সৌদি আরব গেলে কলেজ গভর্নিং বডির সদস্যদের অবহিত করে কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল মিসেস খাদিজা ইয়াসমিনকে সাময়িক ভাবে প্রিন্সিপালের দায়িত্ব পালনের জন্য মৌখিক ভাবে নির্দেশ দিয়ে যান। পবিত্র হজ পালন শেষে তিনি গত ১৬ সেপ্টেম্বর কলেজে এসে ভাইস প্রিন্সিপাল খাদিজা ইয়াসমিনকে দায়িত্ব ভার বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। কিন্ত ভাইস প্রিন্সিপাল খাদিজা ইয়াসমিন বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে তাকে প্রিন্সিপালের দায়িত্ব বুঝিয়ে না দেওয়ায় কলেজে প্রশাসনিক কাজে জটিলতা দেখা দেয়। প্রিন্সিপালের সমস্তা কাগজপত্র ও সিল আটকে রেখেছেন বলে জানা গেছে। ফলে বন্ধ হয়ে যায় ৭২ জন শিক্ষক কর্মচারীর বেতন ভাতা। কলেজের নিরীহ শিক্ষক কর্মচারীরা সমস্যা সমাধানের জন্য শিক্ষামন্ত্রী, শিক্ষাসচিব, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানিয়েছেন।
 
এ ব্যাপারে ভাইস প্রিন্সিপাল মিসেস খাদিজা ইয়াসমিনের সঙ্গে বিস্তারিত জানার জন্য যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কলেজ সরকারি হওয়ার প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ায় বর্তমান প্রিন্সিপাল সালাউদ্দিন আহমেদ বাবর অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে পারেন না। কলেজে জটিলতা হতে পারে এ জন্য তাকে দায়িত্ব ভার বুুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। সালাউদ্দিন আহমেদ বাবরকে কেন প্রিন্সিপালের দায়িত্ব দেওয়া যাবে না এ বিষয়ে তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কোন পরিপত্র বা আদেশ দেখাতে পারেননি।
 
এ ব্যাপারে প্রিন্সিপাল মো. সালাউদ্দিন আহমেদ বাবরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ২০১৬ সালের ২৯ অক্টোবর কলেজ গভর্নিং বডির সভায় এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মারক নং-আইএন এসও-১/০০১০৫/২০১৭/৫৩১৪/৩১৬৯১, তাং-১৬-০১-২০১৭ নির্দেশে আমার চাকরি ২০১৯ সালের ১১ মার্চ পর্যন্ত দুই বছরের জন্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। মির্জাপুর সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মত সারাদেশে ২০টি কলেজ আমার মত দায়িত্ব পালন করে আসছেন। কলেজের দায়িত্ব পালন ও প্রশাসনিক কাজে কোন সমস্যা হচ্ছে না। ভাইস প্রিন্সিপাল নিজের ক্ষমতাবলে জটিলতা সৃষ্টি করেছেন বলে তিনি দাবি করেন।
 
এ ব্যাপারে মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবদুল মালেকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মির্জাপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মো. সালাউদ্দিন আহমেদ বাবর আমার কাছে একটি আবদেনপত্র দিয়েছেন। প্রিন্সপাল-ভাইস প্রিন্সিপাল, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবং কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সমস্যার সমাধান করা হবে।
 
ইত্তেফাক/এমআই