পিরোজপুরের কদমতলা ইউপি ভবনে হামলা, আহত ৫

পিরোজপুর সদর উপজেলার কদমতলা ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে প্রতিপক্ষের হামলায় ৫ ইউপি সদস্য আহত হয়েছেন। সোমবার সকাল ১১ টার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে। 
 
হামলাকারীরা ইউনিয়ন পরিষদের সভা চলাকালে পরিষদ ভবনে ঢুকে এ সহিংস ঘটনা ঘটায়। হামলায় কদমতলা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সোহেল খান (৪০), ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আনিস সেখ (৩৮), ৭নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আল মামুন হাওলাদার (৪০), ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বাবুল সেখ (৪২) ও ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর হোসেনকে (৪২) কুপিয়ে এবং পিটিয়ে জখম করে। মারাত্মক আহত ইউপি সদস্য সোহেল খানকে খুলনা মেডিকেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ১১টি কোপের চিহ্ন রয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
 
এদিকে, পিরোজপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ইউপি সদস্য আল মামুন হাওলাদার জানান, সোমবার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হানিফ খানের সভাপতিত্বে জেলেদের ভিজিএফ’র চাল বিতরণের তালিকা করার বিষয়ে সভা চলছিল। সকাল ১১টার দিকে ইউপি চেয়ারম্যান উত্তেজিত হয়ে সভায় উপস্থিত ইউপি সদস্যদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার শুরু করলে চেয়ারম্যান হানিফ খানের ভাই হাবিব খান ও রিপন খানের নেতৃত্বে ১৫/২০ জনের একটি সন্ত্রাসী বাহিনী চাপাতি, দা, চাইনিজ কুড়াল নিয়ে অতর্কিতে হামলা করে ইউপি সদস্য সোহেল খানকে এলোপাথারি কোপাতে থাকেন। এ সময় হামলাকারীরা উপস্থিত অন্য সদস্যদেরও কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করেন। 
 
মামুন জানান, হামলার সময় উপজেলা প্রকল্প প্রকল্প কর্মকর্তা এবং ট্যাগ অফিসারও উপস্থিত ছিলেন। তাদের সামনেই হামলাকারীরা ইউপি সদস্যদের কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করেন।
 
পিরোজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোল্লা আজাদ হোসেন জানান, হামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ৪ জনকে আটক করা হয়েছে। পিরোজপুর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আহমেদ মাঈনুল আহসান ও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস এম জিয়াউল হকসহ পুলিশের একটি দল কদমতলা এলাকায় অভিযানে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
 
উল্লেখ্য, কদমতলার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হানিফ খানের সঙ্গে ইউপি সদস্য সোহেল খানসহ কয়েকজন সদস্যের দীর্ঘদিন ধরে নানা বিষয়ে বিরোধ চলে আসছিল।
 
ইত্তেফাক/এমআই