প্রায় সাড়ে চার মাস বন্ধ থাকার পর উচ্চ আদালতের নির্দেশে খুলে দেওয়া হয়েছে বগুড়ার চার তারকা হোটেল নাজ গার্ডেনের বার। সোমবার রাতে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জহুরুল ইসলামের উপস্থিতিতে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বারের গোডাউন ও এর গেটের সিলগালা খুলে দেন।
এ সময় জেলা মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক দিলারা রহমান, সদর সার্কেলের পরিদর্শক মো. শাহজালাল ও উপপরিদর্শক সিরাজুল ইসলামসহ হোটেলে কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বগুড়া জেলা প্রশাসনের সহায়তায় গত ১১ জুলাই রাতে নাজ গার্ডেনের বার বন্ধ করে জরিমানা করে। এর কয়েকদিন পর বারের লাইসেন্সও বাতিল করা হয়।
তখন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর অভিযোগে বলেছিল, লাইসেন্স এর শর্ত ভঙ্গের কারণে বার বন্ধ করে লাইসেন্স বাতিল করা হলো। এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হোটেল নাজ গার্ডেনের পক্ষে বার ম্যানেজার শোয়েব আলী বাদী হয়ে গত ৬ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন দাখিল করেন। বিচারপতি তারিক উল হাসান ও বিচারপতি মো. সরোওয়ার্দির নেতৃত্বাধীন আদালত লাইসেন্স বাতিল ৪ মাসের জন্য স্থগিত করে ৭ দিনের মধ্যে বার খুলে দেওয়ার আদেশ দেন। সেই সঙ্গে স্বরাষ্ট্র সচিবসহ ৮ জন বিবাদীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারী করেন।
এরপর মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল দায়ের করেন। এরপর গত ১৫ অক্টোবর প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন ৭ সদস্যের আপিল বিভাগের পূর্নাঙ্গ বেঞ্চে শুনানি শেষে সরকার পক্ষের আপিল আবেদন খারিজ করে হাইকোর্ট বিভাগের আদেশ বহালের নির্দেশ দেন।
এ বেঞ্চের অন্য বিচারপতিগণ হলেন, বিচারপতি ইমান আলী, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী. বিচারপতি মীর্জা হোসাইন হায়দার, বিচারপতি জিনাত আরা, বিচারপতি আবু বকর সিদ্দিকী ও বিচারপতি মো. নূরুজ্জামান। আদালতে রাষ্ট্র পক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও বাদী পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী আব্দুল বাছেত মজুমদার।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বগুড়া কার্যালয়ের পরিদর্শক মো. শাহজালাল বলেন, উচ্চ আদালতের নির্দেশে বার খুলে দেওয়া হয়েছে।
ইত্তেফাক/জেডএইচ