নবগঠিত ‘ঐক্যফ্রন্টে’র প্রথম জনসভাকে সফল করতে ও প্রস্তুতি সমন্বয় করতে ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম শীর্ষ নেতা সুলতান মোহাম্মদ মনসুর ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান একদিন আগেই সিলেট পৌঁছেছেন। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অগ্রগামী দলের এ দুই সদস্য মঙ্গলবার বিকেল পৌণে পাঁচটায় বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে (বিজি-৬০১) সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান। একই ফ্লাইটে ঐক্যফ্রন্টের প্রধান গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন, বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী এবং সুপ্রীম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নাল আবেদীনও সিলেট এসেছেন বলে একটি সূত্র জানায়। এছাড়াও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লাহ বুলু, প্রচার স¤পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, গণফোরামের সাধারণ স¤পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টু, সহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত থাকবেন। এদিকে ড. কামাল হোসেন নেতৃত্বাধীন নবগঠিত জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রথম জনসভাকে ঘিরে স্থানীয়ভাবেও বেশ কৌতুহল ও আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়। বুধবারের জনসভা থেকে নবগঠিত এই দল কি কর্মসূচি দেবে তা নিয়েও জল্পনা-কল্পনা চলছে।
বুধবার বেলা দুটায় সিলেটের ঐতিহাসিক রেজিস্ট্রারি মাঠে জনসভার মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করবে নবগঠিত এ জোট। সভা থেকে নতুন কর্মসূচি ও ঘোষণা করার কথা। সভায় সিলেটের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে জনসভায় প্রধান অতিথি থাকবেন গনফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন আর প্রধান বক্তা থাকবেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এছাড়া ঐক্যফ্রন্টের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দও অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। এর আগে হযরত শাহজালাল(র.) ও হযরত শাহপরান(র.) এর মাজার জিয়ারত করবেন নেতৃবৃন্দ।
অন্যদিকে মঙ্গলবার দুপুরে নগরীর কোর্ট পয়েন্ট থেকে লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে ২৪ অক্টোবরের সমাবেশের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করেন স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। এসময় অন্যান্যের বিএনপি চেয়ারপার্সনে উপদেষ্টা এম এ হক, খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ও মোহাম্মদ চৌধুরী, কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক স¤পাদক কলিম উদ্দিন মিলন, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সিলেট জেলা সভাপতি আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, ছাতক উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান চৌধুরী, সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ স¤পাদক আলী আহমদ, মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আবদুল কাইয়ুম জালালী পংকী, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ স¤পাদক আজমল বক্ত সাদেক,বিএনপি নেতা ফয়সল আহমদ চৌধুরী প্রমুখ।
সমাবেশ ঘিরে সিলেট বিএনপির নেতাকর্মীরাও ব্যাপক প্রস্তুতি সম্পন্ন করছেন। ইতোমধ্যে একাধিক বৈঠকও করেছেন তারা। এছাড়া সমাবেশ সফলে জেলা ও মহানগরের পক্ষ থেকে জরুরী সভাও অনুষ্ঠিত হয়।পুলিশের অনুমতি পাওয়ায় পর তারা পুরোদমে কাজ শুরু করেন। সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র আবুল কাহের শামীম জানান, ২৪ অক্টোবর জনসভায় নগরজুড়ে জনগণের ঢল নামবে বলেও আশা করেন তিনি।
এর আগে দুই দফায় অনুমতি চাওয়া হলেও তা প্রত্যাখ্যান হয়ে ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে হাইকোর্টে রিট করা করা হয়। প্রথম দিকে ২৩ অক্টোবর সমাবেশ আয়োজনের কথা থাকলেও অনুমতি না পাওয়ায় একদিন পর ২৪ অক্টোবর নতুন তারিখ নির্ধারিত হয়। ১৭ অক্টোবর সিলেট বিএনপির ৫ নেতা সমাবেশের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছিলেন। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে সমাবেশের অনুমতি প্রদান করেনি প্রশাসন। একই ভাবে গত শনিবার আবেদন করা হয়েছিল। তবে অনুমতি না মেলায় রোববার রিট করেন ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। সোমবার ওই রিটের শুনানী হওয়ার কথা ছিল। তবে এর আগেই রবিবার সন্ধ্যায় ১৪ শর্তে সমাবেশের অনুমতি প্রদান করে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ।নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার পরিতোষ ঘোষ জানান, ১৪ শর্তে রেজিস্ট্রারি মাঠে জনসভার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে নির্ধারিত শর্ত ছাড়াও জনসভার দিনে নগরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে বাড়তি নিরাপত্তা থাকবে।
উল্লেখ্য যে, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট প্রথমে ২৩ অক্টোবর (মঙ্গলবার) সিলেটে সমাবেশ করতে চেয়েছিল। তবে পুলিশ সমাবেশের অনুমতি দেয়নি। পরে ২৪ অক্টোবর (বুধবার) সমাবেশের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। এ দফায়ও সমাবেশের অনুমতি নিয়ে চলে নানা বিতর্ক। প্রথমে পুলিশ অনুমতি দেয়নি। ফলে ঐক্যফ্রন্ট নেতা সুব্রত চৌধুরী স্বরাষ্ট্রসচিব, আইজিপি ও সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার বরাবর আইনি নোটিশ পাঠান। রবিবার বিএনপি নেতা আলী আহমদ হাইকোর্টে রিট করেন। তবে আইনি সুরাহা হওয়ার আগেই-এদিন সন্ধ্যায় ঐক্যফ্রন্টকে সমাবেশের অনুমতি দেয় পুলিশ।
ইত্তেফাক/এমআই