এশিয়ান হাইওয়ে নেটওয়ার্ক জোরদারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে ‘ভূমি অধিগ্রহণ ও ইউটিলিটি স্থানান্তর প্রকল্প: সাপোর্ট টু ঢাকা (কাঁচপুর)-সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ এবং উভয় পাশে পৃথক সার্ভিস লেন নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। ৩ হাজার ৮৮৫ কোটি ৭২ লাখ টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পটির মাধ্যমে ২৭০.৫৫ কিলোমিটার সড়কের উভয় পার্শ্বে ভূমি অধিগ্রহণ করা হবে। পরবর্তীতে চার লেন সড়ক তৈরি হলে বিমসটেক করিডোর, সার্ক করিডোরসহ আঞ্চলিক সড়ক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ত্বরান্বিত হবে।
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুুষ্ঠিত একনেক সভায় ১৯ হাজার ৭৭৮ কোটি ৭৩ লাখ টাকা ব্যয়ের ২১টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে দুইটি সংশোধিত প্রকল্প রয়েছে। সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের জানান, প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে সরকারের নিজস্ব তহবিল (জিওবি) হতে ১৭ হাজার ৩১৬ কোটি ৯৩ লাখ টাকা, সংস্থার নিজস্ব তহবিল হতে ২৩৩ কোটি ৯৩ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক সাহায্য আকারে ২ হাজার ২২৭ কোটি ৮৭ লাখ টাকা ব্যয় করার লক্ষ্য রয়েছে। তিনি জানান, সরকার দেশব্যাপী জাতীয় মহাসড়কের উভয় পার্শ্বে পৃথক সার্ভিস লেনসহ ক্রমান্বয়ে চার লেনে উন্নীতকরণের মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এরই অংশ হিসেবে আলোচ্য প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
সভায় ৬২৪ কোটি ৯৮ লাখ টাকা ব্যয়ে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার পুনঃনির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ১৭৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কারগারটিতে ১৭২৪ জন ধারণক্ষমতা থাকলেও বর্তমানে ৩২৬৩ বন্দি রয়েছে। তা ছাড়া কিছু ভবন অত্যন্ত জরাজীর্ণ এবং মেরামতের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এ প্রকল্পটির মাধ্যমে নতুন করে কারাগারটি গড়ে তোলা হবে। যেখানে বন্দিদের চিকিত্সা, প্রশিক্ষণসহ যুগোপযোগী সুবিধা থাকবে। পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, সারা দেশে কারাগারগুলোতে ৩৬ হাজার ধারণক্ষমতার বিপরীতে গড়ে ৭৪ হাজার বন্দি ও কয়েদি থাকছে। গত কয়েক দিনে এই সংখ্যা ৯০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। তিনি বলেন, জেলখানা শুধু শাস্তি দেওয়ার স্থান নয়, আমরা কয়েদি ও বন্দিদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে চাই। সভায় প্রধানমন্ত্রী দেশের প্রতিটি জেলখানায় বিচারিক সুবিধা দেওয়ার জন্য পর্যায়ক্রমে আদালত স্থাপনের নির্দেশনা দিয়েছেন।
সভায় ১ হাজার ৮৬৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ঢাকা ও খুলনা বিভাগের নগর ও নগর সন্নিহিত এলাকার অবকাঠামোর উন্নয়নে ‘দ্বিতীয় নগর অঞ্চল উন্নয়ন’ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ১ হাজার ২৫৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা ঋণ দিচ্ছে এশীয় উন্নয় ব্যাংক (এডিবি)। পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, দেশের সকল নগর ও নগর নিকটবর্তী এলাকার উন্নয়ন মাস্টার প্ল্যানের আওতায় বাস্তবায়নের নির্দেশনা দিয়েছে প্রধানমন্ত্রী। এই প্ল্যানের আওতায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর উন্নয়ন কাজ একটি সমন্বিত পদ্ধতিতে বাস্তবায়ন করার নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
সভায় দুর্গম অঞ্চলে সুবিধাবঞ্চিত ২৫ লাখ মানুষকে টেলিযোগাযোগ সুবিধা দেওয়ার লক্ষ্যে ৪০৬ কোটি ১৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘সৌরভিত্তিক স্টেশন স্থাপনের মাধ্যমে দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে টেলিটক নেটওয়ার্ক কভারেজ শক্তিশালীকরণ’ শীর্ষক প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্পে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ১২৫ কোটি ২৪ লাখ টাকা, ভারতীয় নমনীয় ঋণ সুবিধা (৩য় এলওসি) থেকে ২৫৫ কোটি টাকা এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থা টেলিটক, বাংলাদেশ লিমিটেডের নিজস্ব তহবিল থেকে ২৫ কোটি ৯২ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে হাওর, বন, দ্বীপ, পাহাড়ি এলাকায় উচ্চগতিসম্পন্ন থ্রি-জি প্রযুক্তির টেলিযোগাযোগ সেবা পৌঁছানো সম্ভব হবে।
সভায় ১ হাজার ৪৪৫ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ব্যয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় অতিথি পাখি দেখতে প্রচুর মানুষের সমাগম ঘটে। সেখানে প্রবেশের জন্য টিকিট ব্যবস্থা চালুর নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তা ছাড়া আগতদের জন্য পৃথক গেট করাসহ অন্যান্য সুবিধা তৈরি করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ইত্তেফাক/নূহু