চীনের মূল ভূখণ্ড থেকে হংকং যেতে যেখানে আগে চার ঘণ্টা সময় লাগত সেখানে মাত্র একটি সেতু দিয়ে সময় বাঁচানো যাবে সাড়ে তিন ঘণ্টা। ৫৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সেতুটি পাড়ি দিতে সময় লাগবে মাত্র ৩০ মিনিট। চীনের মূল ভূখণ্ডের ঝুহাই শহরের সঙ্গে হংকং ও ম্যাকাওকে সংযুক্ত করবে সেতুটি। ২০০৯ সালে শুরু হয়েছিল এই সেতুর কাজ। সেতুটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে বিশ বিলিয়ন ডলার বা দুই হাজার কোটি ডলার। সেতু নির্মাণে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয়ের কারণে অনেকেই এর সমালোচনা করছেন। সমালোচকরা সেতুটিকে আখ্যায়িত করেছেন ‘শ্বেতহস্তী’ হিসেবে।
দক্ষিণ চীনের গুরুত্বপূর্ণ উপকূলীয় শহর হংকং, ম্যাকাও এবং ঝুহাইয়ের মধ্যে যোগসূত্র স্থাপন করবে এ সেতুটি। শক্তিশালী টাইফুন কিংবা ভূমিকম্প প্রতিরোধী এ সেতুটি তৈরি করতে ব্যবহার করা হয়েছে চার লাখ টন স্টিল, যা দিয়ে নির্মাণ করা যেত অন্তত ৬০টি আইফেল টাওয়ার। সেতুটির প্রায় ৩০ কিলোমিটার পার্ল নদীর উপর দিয়ে গেছে আর জাহাজ চলাচল অব্যাহত রাখার জন্য ৬.৭ কিলোমিটার রাখা হয়েছে সাগরের নিচে টানেলে। এর দুই অংশের মধ্যে সংযোগস্থলে তৈরি করা হয়েছে একটি কৃত্রিম দ্বীপ। আর বাকি অংশ সংযোগ সড়ক, ভায়াডাক্ট আর ভূমিতে টানেল যা ঝুহাই ও হংকংকে মূল সেতুর সঙ্গে যুক্ত করেছে।
মূলত হংকং, ম্যাকাও এবং আরও ৯টি শহরকে যুক্ত করে একটি বৃহত্তর সাগর এলাকা তৈরি প্রকল্পের অংশ হিসেবে এ সেতু নির্মাণ করেছে চীন। সেতুটি নির্মাণ শুরু হয়েছিল ২০০৯ সালে। ২০১৬ সালে এটি চালু করার কথা থাকলেও তা হয়নি। নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থাকায় এর উদ্বোধন পিছিয়ে যায়। অবশেষে গতকাল মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিক সেতুটি উদ্বোধন করেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং। সেতুটি যে তিনটি শহরকে যুক্ত করবে সেখানে বর্তমানে ছয় কোটি ৮০ লাখ মানুষের বাস। দক্ষিণ চীন সাগরে হংকং-ঝুহাই-ম্যাকাওয়ে যোগাযোগ স্থাপনকারী সেতুটি এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সমৃদ্ধ করবে।
সেতুটির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, যারা সেতু পাড়ি দিতে চান তাদের কর্তৃপক্ষের থেকে বিশেষ অনুমতি নিতে হবে। এর জন্য সব যানবাহনকে দিতে হবে নির্দিষ্ট অঙ্কের টোল। এ সেতুতে কোনো গণপরিবহন থাকবে না। তবে যাত্রী ও পর্যটকদের জন্য থাকবে শাটল বাস। কর্তৃপক্ষ আশা করছেন প্রতিদিন অন্তত ৯ হাজার দুইশ যানবাহন এই সেতু দিয়ে চলাচল করবে। কর্মকর্তারা বলছে, সেতুটি চীনের অর্থনীতিতে ১ দশমিক ৪৪ ট্রিলিয়ন ডলার যোগ করবে। তবে কর্তৃপক্ষের এমন ব্যাখ্যা নিয়ে সমালোচকরা সংশয় প্রকাশ করেছেন। -বিবিসি
ইত্তেফাক/নূহু